গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয় ও উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

অনেকে জানেনা যে গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয়? আসলে গরুর মাংস খেলে যেমন উপকার পাওয়া যায়। তেমন ক্ষতিও রয়েছে, চলুন গরুর মাংস খাওয়ার কারণে কি ক্ষতি হতে পারে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
গরুর মাংস অনেকের কাছে প্রিয় যার কারণে তারা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে। এতে শরীরে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এর মত সমস্যা আছে। তাই গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয়? এ সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পোস্টসূচিপত্রঃগরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয় ও উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

গরুর মাংসের পুষ্টিগুণ

অনেকেই গরুর মাংস পছন্দ করে কিন্তু গরুর মাংসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে হয়তো জানে না। নিম্নে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

গরুর মাংসের মধ্যে আছে উন্নত মানের প্রোটিন, যা আমাদের মাংসপেশি শক্তিশালী করতে পারে। এছাড়াও শরীরে অ্যামাইনো এসিড এর চাহিদা পূরণ করে থাকে। কেননা গরু এবং খাসির মাংসের মধ্যে এই অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।

গরুর মাংসের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন থাকে, যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করবে। সেই সাথে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে পারবে, যাদের রক্তিমোগ্লোবিনের কম রয়েছে। তারা পরিমাণ মতো গরুর মাংস খেতে পারবেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে খেলে ভালো হয়।
গরুর মাংসের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকে যেমন ভিটামিন বি ১২, বি৬। তাছাড়া গরুর মাংস নার্ভ সিস্টেম ভালো রাখতে সাহায্য করে।

গরুর মাংসের মধ্যে আয়রনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় মিনারেলস আছে। তাছাড়া জিংক, সেলেনিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকে। যা শরীরের মিনারেলস এর ঘাটতি পূরণ করতে পারে এবং শরীরের কোষকে ভালো রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয়

গরুর মাংস অনেক উপকার করে থাকে, তবে অনেকে জানতে চায় যে গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয়? চলুন, নিম্নে এ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা যাক।

গরুর মাংসের মধ্যে আছে কোলেস্টেরল, সোডিয়াম, ফ্যাট যা আমাদের পুষ্টি উপাদানের মত সবচেয়ে বেশি থাকে। অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার কারণে রক্তের চর্বির মাত্রা বেড়ে যায়। যা হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে গরুর মাংসের ঝোল বা স্টক থেকে প্রচুর সম্পৃক্ত চর্বি দেখা যায়। যা রক্তনালিতে জমে রস এথেরোসক্লেরসিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যার কারণে পরবর্তীতে স্ট্রোক হওয়ার মত সম্ভাবনা থাকে।

গরুর মাংসের মধ্যে অতিরিক্ত সোডিয়াম থাকার কারণে শরীরে ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে, এজন্য অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া যাবে না। এতে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পাবে, যা হৃদ রোগ, স্ট্রোক বা কিডনি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। যা পরবর্তীতে এনাল ফিসার, ফিস্টুলা পাইলস এই ধরনের সমস্যা হতে পারে।

গরুর মাংস খাওয়ার উপকার আছে, তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। কারণ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে, যা কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার কারণে রক্তের ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

গরুর মাংস বেশী খাওয়ার কারণে স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড এবং কোলেস্টেরল থাকার কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত গরু মাংস খাওয়ার কারণে কোলোরেক্টাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ গরুর মাংসের মধ্যে শর্করা অত্যাধিক পরিমাণ থাকার কারণে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

গরুর মাংসের মধ্যে কার্নিটাইন রক্ত নালীগুলোকে শক্ত করতে পারেন। এজন্য রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এবং শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গরুর মাংসের মধ্যে টক্সিন থাকার কারণে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, গাটে ব্যথার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া গরুর মাংস রান্না করার জন্য যে তেল বেশি দেওয়া হয়, এজন্য শরীরে ওজন বৃদ্ধি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দুধ বৃদ্ধির জন্য অনেকেই গাভীকে হরমোন ইনজেকশন কিংবা এন্টিবায়োটিক দিয়ে থাকে। যার কারণে মাংসের মাধ্যমে তা মানব শরীরে যেতে পারে। যা হরমনের অস্বাভাবিক মাত্রা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়া সংক্রমিত গরুর মাংস খাওয়ার কারণে মাথার বিভিন্ন কোষ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাকে ম্যাডকাউ ডিজিস বলা হয়ে যায় হয়ে থাকে।

অনেকদিন যাবত যারা গরুর মাংস খেয়ে থাকে তাদের মাথার বিভিন্ন ধরনের কষে আয়রনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যাকে আলজেইমার এর প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাছাড়া গর্ভবতী মহিলা যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ রয়েছে, তাদের একেবারেই গরুর মাংস না খাওয়াই ভালো।

গরুর মাংসের উপকারিতা

গরুর মাংস পরিমাণ মতো যদি খেতে পারেন, তাহলে গরুর মাংসের উপকারিতা পাবেন। আর যদি অতিরিক্ত খান সে ক্ষেত্রে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। নিম্নে এর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ছবি
শিশুর বৃদ্ধিতে সহায়কঃ গরুর মাংস খাওয়ার কারণে আমাদের বুদ্ধি ভিত্তিক গঠন শারীরিক বর্ধন ও রক্তবর্ণ ভালো কাজ করে থাকে। ৮৫ গ্রাম গরুর মাংস মধ্যে থেকে ১৩ বছর বয়সে কোন শিশুর।

১২৫ শতাংশ ভিটামিন বি ১২, ৯০ শতাংশ প্রোটিন, ৩২ শতাংশ আয়রন, ৭৪ শতাংশ জিংক, ৪২ শতাংশ সেলেনিয়াম, ৩২ শতাংশ ভিটামিন বি ৬, ২৩ শতাংশ রিবোফ্লাভিন, তাছাড়া ১৬% ফসফরাস আছে। যা শিশুর বৃদ্ধি সহায়তা ক্ষেত্রে উপকার করে থাকে।
খনিজের অভাব দূর করেঃ শরীরের খনিজের অভাব এর কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি হয়। এজন্য গরুর মাংস পরিমাণ মত খাওয়ার কারণে এই সকল রোগ ব্যাধি থেকে দূর হওয়া যায়। কারণ এর মধ্যে খনিজ পদার্থ আছে, তাছাড়া গরুর মাংসের মধ্যে জিংক, ফসফরাস, সেলেনিয়াম, লৌহ ইত্যাদি আছে। গরুর মাংসে ভিটামিন বি ৩, বি৬, বি ১২ এ ছাড়া আর ও অনেক ভিটামিন আছে।

প্রোটিনের ভালো উৎসঃ গরুর মাংসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে। তাছাড়া গরুর হাড়, কলিজা, মগজ এ ছাগলের মত অনেক প্রোটিন থাকে। আর এই প্রোটিন থেকে এমাইনো এসিড পাওয়া যায়। আর এই অ্যামাইনো এসিড, হাড় ও মাংসপেশী মজবুত করতে কাজ করে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসের মধ্যে ২২.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

গরুর মাংস খাওয়ার নিয়ম

এর মধ্যে ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয় ? চলুন, এখন খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

চর্বিযুক্ত মাংস খাবেন নাঃ লাল মাংস বা গরু মাংসের মধ্যে চর্বি বেশি থাকে। তাই চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। এজন্য চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়ার কারণে শরীরের চর্বি বেড়ে যেতে পারে। এতে রক্তের ক্ষতি হয়, কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। যার কারণে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের সমস্যা হতে পারে।

ছোট পিস করে মাংস রাঁধুনঃ মাংস রান্না করার সময় মাংস ছোট ছোট করে নিতে হবে। আর খাওয়ার সময় একসঙ্গে চার পাঁচ পিস খাওয়া যেতে পারে, এর বেশি খাওয়া যাবে না।

অল্প তেলে রান্না করাঃ গরুর মাংস রান্না করার সময় তেল খুবই কম দিতে হবে। কারণ লাল-মাংসের নিজস্ব তেল থাকে, সোয়াবিনের বদলে সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন।

সবজি দিয়ে মাংস রাধুনঃ গরুর মাংস রান্না করার সময় সবজি দিতে পারেন। যেমন আলু, পেঁপে, পটল ইত্যাদি দিয়ে রান্না করা যায়। অনেকেই আবার মাংস রান্না করে, চুই ঝাল দিয়ে যা খুবই সুস্বাদু লাগে। রসুন দিয়ে পুরো রসুন দিয়ে রান্না করা।

লবণ মাংস মেরিনেট করাঃ রান্নার সময় আগেই যদি বেশি লবণ মাখিয়ে দিতে পারেন এবং পরিমাণ মতো হয়। লবণ মাংসের শক্ত মাশল ফাইবার সহজেই গলে যেতে পারে, এতে মাংস নরম হবে এবং সহজে সিদ্ধ হতে পারবে।

টেস্টিং সল্ট মিশাবেন নাঃ মাংসতে কখনোই টেস্টিং সল্ট কিংবা সয়া সস ব্যবহার করবেন না। মাংস বারবার গরম করা যাবে না, এতে পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায় এবং ক্ষতিকর ও জটিল প্রোটিন গুলো তৈরি হতে পারে।

সালাদ খাবেন সঙ্গেঃ মাংস খাওয়ার সাথে সালাদ ও খেতে পারেন, এছাড়াও খাওয়া শেষে কোমল পানিও না খাওয়াই ভালো। কোল্ড ড্রিংস এর পরিবর্তে জিরা পানি বা দই খাওয়া যেতে পারে।

গরুর মাংসে কি এলার্জি আছে

গরুর মাংসের মধ্যে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। তবে অনেকে জানতে চায় যে গরুর মাংসে কি এলার্জি আছে? নিম্ন বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অনেকেই এলার্জি থাকার কারণে গরুর মাংস, বেগুন, ইলিশ, চিংড়ি মাছ খায় না। তবে সবার কিন্তু সকল খাবার খেলে এলার্জি নাও হতে পারে। আপনি গরুর মাংস খাওয়ার পরে যদি আপনার এলার্জি সমস্যা দেখা যায়।

যেমন চুলকানি, ত্বকে র‍্যাশ ওঠা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। এই ধরনের সমস্যা যদি থাকে তাহলে মনে করবেন আপনার এলার্জি সমস্যা আছে। গরুর মাংস খাওয়ার কারণে সমস্যা হচ্ছে এলার্জি হতে পারে।

যার কারণে এই সময় তারা এলার্জির সমস্যায় পড়ে যান। যে কোন মানুষের বয়সের এই সমস্যা হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট প্রাণীর মাংস খাওয়ার কারণেও এলার্জি হতে পারে। যেভাবে উপসর্গ গুলো দেখা দিতে পারে তা হল;

কোন নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর যদি দেখেন ত্বকের রেস বা ফুসকুড়ি উঠতে থাকে। তাহলে মনে করবেন এই খাবারে এলার্জি হতে পারে।

অনেকের পেট ব্যথা, বদহজম, বমি বমি ভাব এর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে, ডায়রিয়ার মত সমস্যা হতে পারে।

নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাত্রা অতিরিক্ত হাঁচি মাথাব্যথা, হাঁপানি শ্বাসকষ্ট সমস্যা হতে পারে।

গরুর মাংস খাওয়ার কারণে অনেকের এলার্জি হতে পারে, এটা দেহের একটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা করে। এতে ক্ষতিকারক পদার্থ হিসেবে ধরে নেওয়া হয় এবং এর বিরুদ্ধে ইমিউনোগ্লোবিন নামের এন্টিবডি তৈরি করতে পারে।

আর এই এন্টিবডি দেহের ইমিউন কোষের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। যার কারণে মাংস খাওয়ার সাথে সাথেই এই ইমিউনোগ্লোবিন পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হিস্টামিন অন্যান্য রাসায়নিক রক্ত ছড়িয়ে দিতে পারে, এভাবে নানা প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

গরুর মাংস খেলে কি ওজন বাড়ে

ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয়? এখন জানবো গরুর মাংস খাওয়ার কারণে ওজন বাড়ে কিনা। চলুন, এ সম্পর্কে নিম্ন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

গরুর মাংসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ক্যালরি থাকে, যা শরীরে প্রবেশ করার কারণে আর সারাদিনের কাজের মাধ্যমে সেই ক্যালরি যদি খরচ হয়। আর বাকিটা যদি শরীরে জমা থাকে তাহলে ওজন বাড়তে পারে। গরুর মাংসের মধ্যে প্রোটিন প্রচুর পরিমাণ থাকার কারণে এই ক্যালোরি বৃদ্ধি পায়।

গরুর মাংস খাওয়ার সময় আপনার শরীরে কি পরিমান ক্যালরি যাচ্ছে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে কারণ আপনারা ক্যালোরি যদি খরচ করতে না পারেন। তাহলে আপনার শরীরের জমা থাকে এতে শরীরে ওজন বৃদ্ধি পাবে।

মনে করেন একদিন বেশি খাওয়ার কারণে কিছু হবে না। এরকম মনে করছেন তাহলে এ ধারণাটি ভুল কারণ অতিরিক্ত ক্যালোরি আমরা খাওয়ার কারণে তা যদি খরচ না করতে পারি। তাহলে পরিমিত মাত্রায় বেশি গরুর মাংস খাওয়ার কারণে শরীরে ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরুর মাংস কতটুকু খাওয়া উচিত

গরুর মাংস অনেক উপকার আছে কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না। তাই গরুর মাংস কতটুকু খাওয়া উচিত? একজন পূর্ণ বয়স্ক এবং সুস্থ মানুষ আর শরীরের প্রতি কেজি ওজনের জন্য 0.৮ থেকে ১ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে।
ছবি
কারোর ওজন যদি ৬০ কেজি হয়, সেক্ষেত্রে প্রতিদিন ৪৮ থেকে ৬০ গ্রামের মতো প্রোটিন খেতে পারবে। তবে গর্ভাবস্থায় এবং যারা মাশল বৃদ্ধি করতে চায় সেক্ষেত্র এর দ্বিগুণ পরিমাণ খাওয়া যেতে পারে।

ব্যক্তি বেদে ও রোগ অনুযায়ী একজন মানুষ দুই থেকে তিন টুকরা মাংস খেলে তেমন ক্ষতি হওয়ার কথা না। বিশেষ করে যদি কারোর রোগ থাকে অবশ্যই একজন পুষটিবিদের পরামর্শ করে খেতে হবে। যেমন কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে এক টুকরা খাওয়া যেতে পারে।

যাদের রক্তের ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে তারা গরুর মাংস না খায় ভালো। আবার যাদের হৃদরোগের সমস্যা থাকে, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কোলেস্টেরলের সমস্যা হয় সেই সকল মানুষ গরুর মাংস না খাওয়াই ভালো।

অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার কারণে কি হতে পারেঃ গরুর মাংস সোডিয়াম এর পরিমাণ বেশি থাকার কারণে উচ্চ রক্তচাপ এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরুর মাংসের মধ্যে কোলেস্টেরল থাকার কারণে শিরায় রক্ত জমে থাকে, রক্ত চলাচল করতে সমস্যা দেখা দেয়, হৃদরোগ হার্টের সমস্যা হতে পারে।

অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার কারণে ডায়রিয়া কোষ্ঠকাঠিন্য এলার্জির জনিত সমস্যা হতে পারে। অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার কারণে ক্যান্সারের মত রোগের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।

আমাদের শেষ কথা

পরিশেষে বলা যায় যে গরুর মাংস খাওয়া সবার জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ যাদের বড় ধরনের রোগ রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে গরুর মাংস খেতে হবে। তাছাড়া গরুর মাংসের উপকারিতা রয়েছে কিন্তু ক্ষতি হতে পারে। তাই গরুর মাংস খেলে কি ক্ষতি হয়? এ সম্পর্কে আর্টিকেলে বর্ণনা করা হয়েছে। আশা করি আপনার উপকার হবে। পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধু-বান্ধবের নিকট শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪