আদা বেশি খেলে কি ক্ষতি হয় ও যে বিপদ হতে পারে
আদা শরীরের জন্য উপকার করে থাকে কিন্তু যদি অতিরিক্ত খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে ক্ষতি হতে পারে। তাই আদা বেশি খেলে কি ক্ষতি হয়? এজন্য পরিমাণ মতো আদা খেতে হবে, তাহলে উপকার পাওয়া যায়। চলুন, আদা খেলে শরীরের কি ক্ষতি হবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকেই আদা চা খেতে পছন্দ করে এজন্য প্রচুর পরিমাণে আদা খায় যা শরীরের ক্ষতি সম্মুখীন হয়। তাই চায়ের মাঝে বেশি আদা দিবেন না এবং অতিরিক্ত খাবেন না। তাই আদা বেশি খেলে কি ক্ষতি হয়? সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃআদা বেশি খেলে কি ক্ষতি হয় ও যে বিপদ হতে পারে
আদা বেশি খেলে কি ক্ষতি হয়
আদা আমাদের শরীরে অনেক উপকার করে কিন্তু আদা বেশি খেলে কি ক্ষতি হয়? তাই কি পরিমাণ আমাদের প্রয়োজন সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয় বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি পায়ঃ অতিরিক্ত যদি আদা খেয়ে ফেলেন, সেক্ষেত্রে আপনার পেটের সমস্যা দেখা দিবে এবং এসিডিটি বৃদ্ধি পাবে। তাই অতিরিক্ত আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তাহলে আপনি সুস্থ থাকবেন, তা না হলে আপনার এসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং পেটের সমস্যা হতে পারে।
ঘুম কম হয়ঃ আপনি যদি অতিরিক্ত আদা খেয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার ঘুম কম হবে। এদিকে আপনার খেয়াল রাখতে হবে যে, খাবারের সাথে কি পরিমান আদা খাচ্ছেন। তাই পরিমাণ মতো আদা খেতে হবে, বেশি খাওয়া যাবে না। অনেকে দেখা যায় আদা চা অনেক খেয়ে থাকেন, যার কারণে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই সাথে শরীরের অশান্তি বা অস্বস্তিকর অবস্থা দেখা দিতে পারে। তাই অতিরিক্ত আদা খাবেন না।
হার্টের ক্ষতি হতে পারেঃ যাদের হার্টের আগে থেকেই সমস্যা আছে তারা অতিরিক্ত আদা খাবেন না, এতে আপনার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খান তারা আদা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা থাকবেন। কারন চিকিৎসকরা বলেছেন যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের হৃদ কম্পন বেড়ে যেতে পারে, এতে আপনার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ওষুধের সাথে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ আপনি যদি কোন ধরনের ওষুধ খান সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে আদা খাবেন, তাছাড়া ক্ষতি হবে যেমন যারা ডায়াবেটিস রোগে, ব্লাড প্রেসার এর ক্ষেত্রে ওষুধ খেয়ে থাকেন। তাদের জন্য বেশি আদা খাওয়া যাবেনা। কারণ এই দুটি রোগের জন্য যে ওষুধ খাওয়া হয়, এই ওষুধের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটতে পারে এবং শরীরের ক্ষতি করবে। তাই নিয়মিত যে ওষুধগুলো খাওয়া হয় তার সাথে অতিরিক্ত আদা খাওয়া যাবে না।
গর্ভবতী মহিলাদের অসুবিধাঃ গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আদা খাওয়া যাবেনা। কেননা এতে স্টিমুলেট থাকার কারণে শরীরের বেশি মজবুত করতে পারে। আর এজন্য মহিলাদের আদা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। কেননা গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস চিকিৎসকরা আদা খেতে নিষেধ করে থাকেন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যাঃ ওজন কমাতে অতিরিক্ত আদা খেলে ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। যেহেতু আদা খাওয়ার কারণে ওজন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে কিন্তু যদি ওজন এমনিতে যাদের প্রবলেম রয়েছে তারা যদি অতিরিক্ত আদা খেয়ে ফেলে সেক্ষেত্রে আরও কমে যাবে। যা আপনার শরীরের পিএইচ লেভেল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
এ কারণে হজমের প্রক্রিয়া ভালো করে কিন্তু অতিরিক্ত যদি খেয়ে ফেলেন, সেই ক্ষেত্রে পিএইচ লেভেল বৃদ্ধি পেয়ে ওজন আরো কমে যাবে। রক্ত চলাচল করার ক্ষেত্রে এটা ভালো কাজ করে। যার কারণে যাদের ওজন বেশি ও ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য ভালো উপকার করবে কিন্তু তাদের হিমোফিলিয়া আছে তাদের জন্য আদা খাওয়া ভালো হবে না। তাই আদা কতটা খাবেন সেটা চিকিৎসকের পরামর্শে খেতে হবে।
বুকে ব্যথাঃ আপনি যদি অতিরিক্ত আদা খান সে ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা করতে পারে। যেহেতু কিছু উপকারিতা আছে এবং অপকারিতাও আছে, অতিরিক্ত পরিমাণ কখনই খাবেন না। অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে বুকে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। তাই আবার যেমন উপকারিতা আছে তেমনি অপকারিতা রয়েছে তা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবে না।
চিকিৎসকরা বলেন অতিরিক্ত যদি কেউ আদা খায় সে ক্ষেত্রে গলা ব্যথা হতে পারে। তাছাড়া মুখ ও গলার সাল মিউকোসাল এর ক্ষেত্রে ক্ষতি হতে পারে। তাই অতিরিক্ত আদা খাওয়ার কারণে পেটে গ্যাসটিক, পেট ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা গুলো দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু মানুষের একদমই আদা খাওয়া যাবেনা, যারা ওজন বৃদ্ধি করতে চান তাদের ক্ষেত্রে আদা খাওয়া ঠিক হবে না। কারণ এর কারণে আরো ওজন কমে যাবে সুতরাং বৃদ্ধি করার জন্য আদা ত্যাগ করা লাগবে।
তাছাড়া যারা হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত রয়েছেন তারা এটা না খাওয়াই ভালো। কেননা এদের রক্ত পাতলা করে দিতে পারে এবং হিমোফিলিয়া রোগীদের জন্য ক্ষতি হতে পারে।
অন্তঃসত্তা নারীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে প্রথম পর্যায়ে আদা না খাওয়া ভালো। আদা খাওয়ার কারণে সকালে ক্লান্তি এবং দুর্বলতা কম হতে পারে কিন্তু গর্ভাবস্থায় শেষ তিন মাসে নারীদের আদা খাওয়া যাবে না।
যদি কারো নিয়মিত ভাবে ওষুধ খাওয়া লাগতে পারে সে ক্ষেত্রে আদা খাওয়া ঠিক হবে না। ওষুধের মধ্যে যেমন ইনসুলিন যদি আদার সাথে মিশে যায় সে ক্ষেত্রে শরীরে বিশাল ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url