কাজা নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন
অনেকের ভুলবশত ও অপারগতার কারণে নামাজ কাজা হয়ে যায়। তাই কাজা নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আপনার যদি না জানা থাকে, তাহলে আজকের আর্টিকেল পড়ুন। চলুন, নামাজ কাজা হলে কি করবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবেই নামাজ কাজা করে থাকে কিন্তু তারা জানে না কিভাবে এই কাজা নামাজ আদায় করবে। তাই কাজা নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃকাজা নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জেনে নিন
কাজা নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম
অনেকের বিভিন্ন কারণে নামাজ কাজা হয়ে যায়। তাই কাজা নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে না জানা থাকলে, আপনি কাজা নামাজ পড়তে পারবেন না। চলুন, কিভাবে কাজা নামাজ পড়বেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বা বিভিন্ন বড় ধরনের ওজরের জন্য নামাজ কাজা হয়ে গেছে যা পরবর্তীতে অবশ্যই পড়তে হবে। এটাই মূলত কাজা নামাজ, এ নামাজ ফরজ, ওয়াজিব হতে পারে। মহান আল্লাহ তা'লা বলেছেন, নামাজ মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।' সূরা নিসা আয়াতঃ ১০৩
'কোন ব্যক্তি বড় ধরনের কোন অসুবিধা ছাড়া সময় মত নামাজ না পড়লে জায়েজ হবে না।' বুখারী শরীফঃ ৪৯৬
'কোন ওজর বা বড় ধরনের সমস্যা না দেখা দিলে কখনোই নামাজ কাজা করা যাবে না, সময় মত নামাজ পড়া ফরজ।' বুখারী শরীফঃ ৫৬২
সুন্নাত ও নফল নামাজ কাজা করা লাগবে না, তবে সুন্নত বা নফল নামাজ আরম্ভ করার পর যদি ভেঙে যায় সেক্ষেত্রে কাজা করতে হবে। সূরা মুহাম্মদঃ৩৩
যদি ফজরের সুন্নত ও ফরজ দুটোই কাজ হয়, সেক্ষেত্রে সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে একসঙ্গে এই দুইটা কাজা করা যাবে। আবু দাউদ হাদিসঃ ৭৫
যদি কাজা নামাজ অনেক হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে প্রতিটি নামাজকে ভাগ করে নিতে হবে। যদি নির্ধারিত একসাথে পড়া হয়তো কষ্টদায়ক, তাই যে নামাজের কাজা হয়েছে ওই নামাজের সময় করে নিলে হবে। বুখারী শরীফ হাদিসঃ ১
মহান আল্লাহ তা'লা সঠিক সময় নামাজ পড়তে বলেছেন এবং এটা মহান আল্লাহতালা পছন্দ করে থাকেন। যদি কেউ দীর্ঘকাল কয়েক মাস বা বছর যাবত নামাজ পড়ে না, সে ক্ষেত্রে তার কাজা নামাজ হবে, অনুমান করে কাজা নামাজ পড়ে নেবেন। এক্ষেত্রে নিয়ম হল ওই ব্যক্তি যখন প্রতিদিনের নির্ধারিত ওয়াক্তের নামাজ পড়বে।
তখন সেই ওয়াক্তের সঙ্গে মিল রেখে ধারাবাহিকভাবে ওয়াক্তের কাজা নামাজ পড়ে নিবেন। এভাবে কাজা নামাজগুলো ধারাবাহিকভাবে পালন করবে। মনে করুন নামাজ পড়তে যাচ্ছেন, শেষ নামাজগুলো পড়ে এরপরে যে ওয়াক্তের কাজা হয়েছে সেই ওয়াক্ত আদায় করে নিবেন।
কোন মানুষ যদি সফরে যায় সেক্ষেত্রে যদি পড়তে না পারে,তবে সে সফর শেষে মুকিম হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় করতে না পারলে, এই নামাজ কাজা করে নিবেন। কোন কারনে যদি নফল নামাজ ছেড়ে যায়, তাহলে তার পরেও কাজা করা ওয়াজিব বলে বিবেচনা করা হয়।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা ও নফল নামাজের কাজা করা লাগবে না, তবে ফজরের নামাজের যে সুন্নত রয়েছে, এটা যদি কাজা হয়ে যায়, এক্ষেত্রে ফরজ নামাজ আগে পড়ে নিবেন। যেহেতু পুরুষ মানুষ মসজিদে যেতে হবে, সুন্নত ফরজ উভয় নামাজ পড়তে যদি ভুলে যান তাহলে কাজা হয়ে যায়।
সে ক্ষেত্রে একসাথে পালন করা উত্তম হবে, দুপুরের চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে, ফরজ নামাজের পর আদায় করে নেওয়া যেতে পারে। যোহরের ফরজ নামাজের পর দুই রাকাত সুন্নত থাকে তা ফরজ নামাজ আদায়ের পরে চার রাকাত সুন্নত পড়া যায়। তবে জুমার নামাজের কাজা করা যাবে না।
কেউ যদি জুমার নামাজ কোন কারনে আদায় করতে অপারগতা দেখা যায় সে ক্ষেত্রে নামাজের পরিবর্তন যদি কোন ব্যক্তি জুমার নামাজের কাজা হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ওই নামাজের পরিবর্তে যে জহর নামাজ পড়া যাবে। সেই কারণে যদি আদায় করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে এর পরিবর্তে যোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ পড়ে নিবেন।
জীবনে যে নামাজ পড়ে নাই এবং কত নামাজ যে হারিয়ে গেছে তার কোন হিসাব নাই। এখন কাজা করতে চাচ্ছেন সে ক্ষেত্রে নামাজের পূর্বে কাজা আদায় করতে থাকবেন। কাজা নামাজে যখন নিয়ত করবেন, সেই ক্ষেত্রে নামাজের কথা উল্লেখ করতে হবে।
আমাদের অসচেতনতার কারণে সাধারণত এই নামাজ পড়া ভুলে যায় এবং কাজা হয়ে যায়। তবে এ কাজা নামাজ পড়া নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে যা অনেকেই মনে করে যে কাজা নামাজ যদি না পড়া যায়, সে ক্ষেত্রে জাহান্নামের নিম্ন স্তরে দেওয়া হবে।
এটা একটি কথার কথা বলা হয়েছে কিন্তু সালাত আদায় না করার মাধ্যমে মানুষের স্থান থেকে খারিজ হয়ে যাবে। এটা আসলে তার মনের বিষয় পেছনের সালাতগুলো পড়ার জন্য না বললেও চলবে কারণ তিনি নতুন করে সালাত পড়া শুরু করতে চাচ্ছেন। তাই পুরনো কাজা নামাজগুলো পড়ার দরকার হবে না। পিছনের নামাজগুলো যদি আপনি পালন করতে চান সে ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নেই।
তবে কিছু আলেমগণ মনে করেন এই নামাজগুলো আদায় না করলে সে ইসলাম থেকে বাতিল হয়ে যাবে। তাদের মতে পিছনের সালাত অবশ্যই মানুষকে আদায় করা লাগবে। এক্ষেত্রে তেমন কোনো নিয়ম বাধা নেই এই ক্ষেত্রে ব্যক্তি তার সুবিধা অনুযায়ী ধারণা করে সালাত আদায় করে নিবে।
যখন ইচ্ছে করবে ফজরের সালাতে ফজরের নিয়ত যোহরের সালাতে জোহরের নিয়ত করা লাগবে। আর বেশি বেশি নফল নামাজ পড়তে হবে। হাদিসে আছে নফলের মাধ্যমে আল্লাহ ফরজের বিষয়টি পূরণ করে থাকে।
সারা জীবনের কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম
আপনি যদি দীর্ঘদিন যাবত সঠিকভাবে নামাজ পড়েননি, সে ক্ষেত্রে কি ভাবে নামাজ পড়বেন। তাই সারা জীবনের কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
আমাদের সচেতন হতে হবে এ বিষয়ে ইসলাম আমাদেরকে কি বলেছে সেটা জানতে হবে। অসচেতনতা হওয়া যাবেনা এতে আপনার নামাজ না আদায় করলে সেটা আদায় করতে হবে। তবে অবশ্যই ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন যুক্তি রয়েছে এবং মতামত রয়েছে নামাজ যদি কোন জরুরি কারণে না পড়তে পারে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে পরবর্তীতে সেটা পড়ে নেবে নতুন করে আবার সরাসরি করছে।
তাই পুরনো নামাজগুলো পড়েনি সেগুলো অবশ্যই আদায় করতে হবে। কেননা এটা না করলে গুনাগার হওয়া লাগবে, তবে এই বিষয়টি যে ধরা বাধা নিয়ম থাকার কথা সেগুলো নেই। আপনার ইচ্ছা মতে যখন খুশি তখন পরতে পারবেন। ফজরের সালাত যখন প্রতিদিন তখন ফজরের নিয়ত করতে পারেন যোহরের নামাজ পর্যন্ত নামাজ পড়ে নিবেন এভাবে করে নিতে হবে।
কাজা নামাজ পড়ার সময়
যদি আপনার কোন নামাজ কাজা হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে কাজা নামাজ পড়ার সময় সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। তাহলে আপনি পরিপূর্ণভাবে নামাজ পড়তে পারবেন, তা না হলে গুনাহ হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
যে কোন সময় পড়তে পারবেন এতে কোন অসুবিধা নেই, দিনরাত্রে যেকোনো সময় আপনি ইচ্ছা করলে এই নামাজ পড়তে পারবেন। তবে চেষ্টা করবেন অন্যান্য নামাজ পড়ার সময় কিছু নামাজ পড়ে নিতে পারেন। তাহলে সুবিধা হবে যদি কোন ব্যক্তি কোন যুক্তি ছাড়া বা ইসলামের দৃষ্টিকোণ ছাড়া কোন নারী বা পুরুষ নামাজ পড়া ছেড়ে দেয় তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করবেন
কাজা নামাজ আদায় করার পদ্ধতি
কাজা নামাজ মানুষ যেভাবে পড়তে পারেন সেটা আপনাকে জানতে হবে। তাই কাজা নামাজ আদায় করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানলে আপনি নামাজ সুন্দর মত পড়তে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
এ নামাজ আদায় করার জন্য সর্বপ্রথম যে কাজটা আপনাকে করতে হবে। এছাড়াও যে নামাজ পড়তে যাচ্ছেন নামাজের কাজা করতে পারেন। তাছাড়া যে নামাজের নাই অবশ্যই পড়ে নেবেন। যদি আপনি ভ্রমন করতে যান সে ক্ষেত্রে কসরের নামাজ পড়বেন।
এক্ষেত্রে বাড়ি ফেরার সাথে সাথে আপনি নামাজটি আদায় করে নিবেন। তবে এক্ষেত্রে একটু আপনার মকবুল রয়েছে যেটা দুই বিঘা জমি। এজন্য আপনি চার রাকাত বিশিষ্ট নয়া গুলো দুই রাকাত নামাজ পড়তে পারবেনা অবস্থায়
কাজা নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে FAQ প্রশ্ন
কাজা নামাজ কি বিতরের আগে পড়তে হয়?
ইমাম মালেক (র) বলেছেন ফজরের নামাজ যদি পড়া শুরু করেন সে ক্ষেত্রে তার পূর্বে আপনি কাজা করতে পারবেন। যদি ফজরের আগে কাজা আদায় করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে সূর্য উদয়ের পর কাজা করা যাবে।
কাজা নামাজে কি ইকামত দিতে হবে?
আপনি যদি কাজা নামাজ পড়তে যান সে ক্ষেত্রে ইকামত দেওয়া লাগবে না। যদি আপনি অনেকগুলো নামাজ একসাথে পরতে চান সেই ক্ষেত্রে ইকামত দেওয়া যেতে পারে।
কাজা নামাজ পড়ার বিধান কি?
অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আপনি নামাজ না পড়ে থাকেন সেই ক্ষেত্রে ওই নামাজের যদি কাজা করতে হয়, তা নামাজ পরবর্তীতে পড়তে পারবেন। এই নামাজ শুধু ফরজ, ওয়াজিব এই দুটি ক্ষেত্রে কাজা করা যাবে। সুন্নত ছুটে গেলে সেখানে কাজা করার প্রয়োজন নাই।
শেষ কথাঃ
পরিশেষে বলা যায় যে আপনি একজন মুসলমান হিসেবে চেষ্টা করবেন নামাজ যেন কাজা না হয়। যদি কোন বড় ধরনের রোগ ব্যাধি হঠাৎ করে হয়ে যায় বা কোন সমস্যা রয়েছে, যার কারণে আপনি নামাজ কাজা করতে চাচ্ছেন, তাই কাজা নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি আপনার উপকার হবে। পোস্টটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধু-বান্ধবের নিকট শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url