গর্ভাবস্থায় করলা খেলে কি হয় ও উপকারিতা সম্পর্কে জানুন
অনেকেই করলা খেতে পছন্দ করে না কারণ অত্যন্ত তিতা হয়ে থাকে কিন্তু অনেক উপকার রয়েছে। তাই গর্ভাবস্থায় করলা খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে জানলে আপনার উপকার হবে। চলুন, করলার উপকারিতা ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
করলার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকে যেমন ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি রয়েছে। যা একজন গর্ভবতীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই গর্ভাবস্থায় করলা খেলে কি হয়? এ সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃগর্ভাবস্থায় করলা খেলে কি হয় ও উপকারিতা সম্পর্কে জানুন
গর্ভাবস্থায় করলা খেলে কি হয়
গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সবজি খেয়ে থাকেন, তার মাঝে করলা অন্যতম। তাই গর্ভাবস্থায় করলা খেলে কি হয়? সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি এবং উপকারিতা রয়েছে। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
নারীরা সাধারণত এই সময়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সবজিও খেতে হবে। কেননা এ সময় পুষ্টির প্রয়োজন রয়েছে। তাই শিশুর সুস্থ ও বৃদ্ধি বিকাশের জন্য বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাওয়া যেতে পারে। তার মধ্যে করলা খেতে পারেন।
এই সবজি সাধারণত মানুষ ভাজি করে খেতে পছন্দ করে অত্যন্ত সুস্বাদু কিন্তু তিতে লাগে, এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। তাই গর্ভবতী মায়েরা নিয়মিত এটা খেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। চলুন এবার বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করেঃ গর্ভবতী মায়েদের এই সময়ে অনেকের ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই কার্বোহাইড্রেট কম খেতে হবে এবং ফাইবার যুক্ত খাবার গুলো বেশি খেতে হবে। তাহলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তাই এই করলা খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত হজমের সমস্যা দেখা যায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য করলা খাওয়া যেতে পারে। এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ সাধারণত গর্ভবতী মায়েদের এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই বৃদ্ধি করার জন্য করলা খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন-সি থাকে।
যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে। তাই গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত বিভিন্ন রোগের ভোগান্তি হতে পারেন বা আক্রমণ হতে পারে, সেই সকল রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করলা ভালো কাজ করে থাকে।
ত্বকের সুস্থতাঃ গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত এই সময় ত্বকে বিভিন্ন ধরনের ব্রণ বা সংক্রমণ দেখা যায়। তাই ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার গুলো খেলে ত্বকের ক্ষেত্রে ভালো উপকার পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে করলা খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মাঝে ভিটামিন-সি আছে, যা ত্বকের ব্রণ বা অন্য কোন সমস্যাগুলো দূর করতে সাহায্য করবে।
জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমাবেঃ এর মধ্যে ফলিক এসিড আছে যা শিশুর সুস্থ বুদ্ধি বিকাশে সহযোগিতা করবে। গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড প্রয়োজন হয়। তাই করলা খাওয়া যেতে পারে। করলা খাওয়ার কারণে জন্মগত ত্রুটির ঝুকি কমাতে সাহায্য করবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণঃ গর্ভবতী মায়েদের অনেকের ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকে না, এক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য করলা খাওয়া যেতে পারে। কেননা এর মাঝে ক্যালরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকার কারণে গর্ভাবস্থায় ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। করলা খেলে পেট ভরা মনে হয় এজন্য অতিরিক্ত কোন ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ থাকে না। যা ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
পুষ্টির চাহিদা পূরণ করেঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-এ ছাড়া আরো অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে। যা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ফাইবার থাকেঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে যা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার গুলো খাওয়ার প্রতি আগ্রহ থাকবে না, এটা গর্ববতীকে সুস্থ এবং ফিটনেস স্লিম থাকবে। এছাড়াও পেটের সমস্যা দূর করবে এক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে।
ফলেট সামগ্রীঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফোলেট থাকে যা একজন গর্ভবতী মায়ের খুবই প্রয়োজন। কেননা এই সময় তাদের রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে আয়রন ও ফলেট এর প্রয়োজন হয়। তাই এই চাহিদা পূরণ করার জন্য করলা খাওয়া যেতে পারে।
কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে ফলেট থাকে, এছাড়াও এটা নতুন কোষ এবং ডিএনএ, আরএনএ উপাদান তৈরি করতে সাহায্য করে থাকে। ভ্রনের বৃদ্ধি করতে পারে, নবজাতককে নিউরাল ত্রুটি এবং সমস্যা গুলো দূর করতে সাহায্য করে।
এন্টি ডায়াবেটিকঃ গর্ভাবস্থায় সাধারণত গর্ভবতী মায়েদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তাদের ঘন ঘন করলা খেলে এই ডায়াবেটিসের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। করলা কে এক ধরনের ইনসুলিন যৌগ বলা হয়ে থাকে, যা হাইপোগ্লোসাইমিক প্রোটিন নামে পরিচিত করা হয়।
যা রক্তের শর্ক্রার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। এর মধ্যে অনেক পুষ্টি রয়েছে যেমন পলি পেপটাইড যা আপনার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।
সংক্রমণ প্রতিরোধ করেঃ গর্ভাবস্থায় সাধারণত মায়েদের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ, রোগ ব্যাধি আক্রমণ করতে পারে। তাই প্রতিহত করার জন্য করলা খাওয়া যেতে পারে। কারণ এর মাঝে এন্টিবায়োপ্রোবিয়াল এন্টি মাইক্রোবিয়াল থাকার কারণে যা সংক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করবে।
তাছাড়া এন্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এ সকল বিবেচনায় আপনি করলা খেতে পারেন। এটা গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।
অন্যান্য পুষ্টি যোগান দেয়ঃ উপরোক্ত অনেক পুষ্টির নাম বর্ণনা করা হয়েছে যা এই করলার মধ্যে পাওয়া যায়। তাছাড়া আরো অনেক পুষ্টিগুণ হয়েছে যেমন রাইবোফ্লাবিন, ভিটামিন বি-১১, বিটা ক্যারোটিন যা ভ্রনের ফুসফুসের বিকাশের ক্ষেত্রে ভালো উপকার করে থাকে। এছাড়াও ভিটামিন-এ গর্ভস্থ শিশুর ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url