শরীরের দাদ দূর করার 15 টি উপায় ও ঔষধ সম্পর্কে জানুন

আপনার শরীরে যদি দাদ হয়ে থাকে তাহলে প্রাকৃতিক উপায়ে দূর করুন। তাই শরীরের দাদ দূর করার উপায় সম্পর্কে জানলে এই ধরনের সমস্যা করতে পারবেন। চলুন, কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে দাউদ সেরে তুলবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
দাদ ছত্রাক রোগ যা একজনের থেকে আরেকজনে ছড়াতে পারে। এই বিষয়ে আপনার সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য প্রাকৃতিক উপায়ে দ্রুত গতিতে সারাতে পারবেন। তাই শরীরের দাদ দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পোস্টসূচিপত্রঃশরীরের দাদ দূর করার 15 টি উপায় ও ঔষধ সম্পর্কে জানুন

শরীরের দাদ দূর করার উপায়

অনেকের শরীরে বিভিন্ন ধরনের দাউদ হয়ে থাকে। তাই শরীরের দাদ দূর করার উপায় সম্পর্কে জানলে আপনি ঘরে বসেই দাদ দূর করতে পারবেন। চলুন, কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে দাদ দূর করবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

এই রোগ ছত্রাক হিসেবে পরিচিত। ছত্রাকের কারণেই দাউদ হয়ে থাকে, অনেক ধরনের দাদ হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চাকা মত হয়, ভিতরে লাল হয়ে থাকে, প্রচুর পরিমাণ চুলকানি শুরু হয়, এ রোগটি একজনের থেকে আরেকজনে ছড়ায়।

তাই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, কারো পোশাক এর মাধ্যমেও ছড়াতে পারে। এইজন্য আপনাকে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। তাহলেই আপনার এই ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাবেন। চলুন, বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

পরিষ্কার রাখুনঃ আপনার যদি দাউদ হয়েই যায় সে ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। এজন্য অ্যান্টি ব্যাক্টরিয়াল সাবান ব্যবহার করবেন। পরিষ্কার করে শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলবেন এবং শুকিয়ে ফেলবেন। এই ধরনের দাউদ হলে দেখা যায় প্রচুর পরিমাণ চুলকায়, তাই আপনি এই সময় চুলকাবেন না। এতে আরো বেশি ছড়িয়ে যাবে, হাতের নখ ছোট রাখতে হবে।

শুকনা রাখবেনঃ আপনার দাদ হওয়ার পর যদি সবসময় ভিজা রাখেন, তাহলে আরো ছড়াবে বেশি। তাই শুকনা রাখার চেষ্টা করবেন। এছাড়াও ঘাম যেন ওখানে না লাগে, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। সেজন্য এমন পোশাক করতে হবে যেন আক্রান্ত স্থানে ঘাম জমে না যায়।

চুলকানি এড়িয়ে চলুনঃ দাদ এর ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে চুলকানি জ্বালাতন করে, সেজন্য আপনার হাতের নখ গুলো ছোট রাখতে হবে এবং চুলকানো যাবে না। কেননা হাতের নখের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিভিন্ন ঔষধঃ এ ধরনের চর্মরোগ গুলো সারতে অনেক সময় লাগে, যার কারণে বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করতে হয়। একেক জনের শরীরে একেক টা ক্রিম কাজ করে এজন্য ৪-৫ মাস সময়ও লাগতে পারে। সেজন্য ধৈর্য ধারণ করে এর চিকিৎসা নিতে হবে। এজন্য চিকিৎসকরা যে ক্রিমগুলো বা ওষুধ গুলো ব্যবহার করেন সে সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক। বিভিন্ন ধরনের লোশন ক্রিম সাবান ব্যবহার করা হয়। যেমন

ক্লোট্রিমেজোল

ফানজিডাল

ইবারকোনাজল ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারেন।

এই ধরনের ক্রিমগুলো ৪-৫ মাস ব্যবহার করবেন, এছাড়াও আপনার সাথে যারা থাকে যেমন স্ত্রী, বাচ্চারা তাদেরকেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেন আপনার মাধ্যমে তাদের এই রোগটি ছড়ায় না। তাছাড়া পরিবারের সকলেই এক ধরনের সাবান ব্যবহার করতে হবে। তাই কিটোকোনাজল সাবান পাওয়া যায়, এই ধরনের সাবান গুলো ব্যবহার করতে পারেন।

গোসলের পূর্বে অবশ্যই কিটোকোনাজল নামের শ্যাম্পু পাওয়া যায়, সেই শ্যাম্পু পরিবারের সবাই ব্যবহার করবেন। তাহলে মাথার ভিতরে এই ধরনের দাউদ নাও হতে পারে, এভাবে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করা যেতে পারে। তাই ৪-৫ মাস ব্যবহার করবেন এতে যদি আপনার কাজ না হয়, তাহলে অবশ্যই ওষুধ পরিবর্তন করা লাগবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এবার চলুন ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক। কিভাবে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার এই দাউদ দূর করতে পারবেন চলুন জানা যাক।

নারকেল তেলঃ এর মধ্য এন্টিফাঙ্গাল মাইক্রোবিয়াল নামের উপাদান থাকে যা দাউদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকার করে। এটা দাউদ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের চুলকানি ও সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে থাকে। একটি বাটির মধ্যে অল্প পরিমাণ নারিকেল তেল নিবেন এবং হালকা গরম করে নিতে হবে। এরপরে দাউদের স্থানে লাগাবেন, দিনে দুই থেকে তিনবার লাগাতে পারেন।

হলুদঃ এটি প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক। এর মধ্যে এন্টিব্যাকটিরিয়াল ও আন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান থাকে। তাছাড়া এন্টিফাঙ্গাল হিসেবেও কাজ করে থাকে, তাই আপনার দাউদ যেখানে হয়েছে এটা ব্যবহার করলে উপকার পাবেন। এজন্য হলুদের গুঁড়া নিবেন এরপর অল্প পরিমাণ পানি দিয়ে মিশ্রিত করবেন। এরপর আক্রান্ত স্থানে লাগাবেন এরপরে শুকানোর চেষ্টা করবেন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
রসুনঃ ছত্রাকের কারণে এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে, এ ধরনের ছত্রাক দূর করার জন্য রসুন ব্যবহার করতে পারেন। কেননা এর মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা সংক্রমণ ও ছত্রাক দূর করতে সাহায্য করে। এজন্য অল্প পরিমাণ রসুন নিবেন এবং সেটা ব্লেন্ডার করে নেবেন। এর সাথে অলিভ অয়েল তেল নিবেন ও মধু নিতে পারেন, মিশ্রিত করে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন। এরপর শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, হাল্কা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তুলসী পাতাঃ এর মধ্যে এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে যা আপনার দাউদের জন্য ভালো কাজ করবে এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারবে। এজন্য আপনি তুলসী পাতা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও এটা চুলকানি র‍্যাশ ওঠা দূর করতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ তুলসী পাতা নিবেন এটা পাটায় পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন। কিছুদিন ব্যবহার করলে এ ধরনের দাউদ দূর হয়ে যাবে।

অ্যালোভেরা জেলঃ এর মধ্যে এক ধরনের রেজিন নামক উপাদান থাকে যা ছত্রাক ও সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে। এজন্য যাদের দাউদের সমস্যা রয়েছে তারা ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও এটা চুলকানি ও ব্যথা, জ্বালা যন্ত্রণা দূর করে। এছাড়াও ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। এজন্য অল্প পরিমাণ এই জেল বের করে আক্রান্ত স্থানে দিতে পারেন, কয়েকদিন ব্যবহার করলে অনেকটাই কমে যাবে।

মধুঃ এর মধ্যে এক ধরনের হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও ছত্রাক নাশক উপাদান থাকে যা বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ও সংক্রমণ কে প্রতিহত করতে পারে। এজন্য পরিষ্কার একটি তুলাযুক্ত কাঠি নিয়ে অল্প পরিমাণ মধু নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাবেন, এভাবে ব্যবহার করলে সেরে যাবে।

জয়ফলঃ এর মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টিসেপটিক ও এন্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে, যা আপনার দাউদ সারাতে কাজ করবে। এজন্য এর সামান্য গুড়ো নিতে হবে অল্প পরিমাণ পানি মিশিয়ে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগাবেন, এভাবে কয়েকদিন লাগালে সেরে যাবে।

অ্যাপেল সিডার ভিনেগারঃ এর মধ্যে থাকে এক ধরনের ফাঙ্গাস বিরোধী উপাদান যা বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও দাউদ দূর করতে সাহায্য করবে। তাই দিনে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য পরিষ্কার তুলার মধ্যে অল্প পরিমাণ আপেল সিডার ভিনেগার নিবেন এবং আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দেবেন, এভাবে ব্যবহার করলে কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যাবে।

কাঁচা পেঁপেঃ এর মধ্যে থাকে এক ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা ত্বকের বাইরের যদি মৃত কোষ থাকে সেটা দূর করতে সাহায্য করবে। আর দাউদ সাধারণত ত্বকে এর বাইরে মৃত কোষ হিসাবেই হয়ে থাকে। তাই এই কাঁচা পেঁপে কেটে আপনি যদি আপনার আক্রান্ত স্থানে ১০ মিনিটের মত ঘষতে পারেন, তাহলে ভালো ফলাফল পাবেন। এভাবে দিনে তিনবার ব্যবহার করবেন তাহলে আপনার দাউদ দূর হয়ে যাবে।

লবণ ও ভিনেগারঃ লবণ পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে বিশেষ করে অ্যাস্ট্রোজেন হিসাবে উপকার করে থাকে এবং ক্ষতস্থান দ্রুত সারাতে পারে ও সংক্রমিত স্থান শুকাতে সাহায্য করে, জ্বালা যন্ত্রণা দূর করে। এজন্য ১ চামচ পরিমাণ লবণ ও ভিনেগার মিশ্রিত করে আক্রান্ত স্থানে দিনে দুই থেকে তিনবার লাগালে সেরে যাবে।

নিমপাতাঃ এর মধ্যে এক ধরনের এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও এন্ট্রি ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে, যা আপনার বিভিন্ন ধরনের দাউদের সংক্রমণ এবং ছত্রাকগুলো দূর করতে সাহায্য করে। তাই কয়েকটি নিম পাতা নেবেন এবং এটা পিষে নিয়ে স্থানে লাগাতে পারেন এতে চুলকানি কমবে এবং দ্রুত দাউদ শুকাতে শুরু করবে।

গাঁদা ফুলঃ এর মধ্যে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ও এন্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে, যা আপনার ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণকে দূর করতে সাহায্য করবে এবং ছত্রাক দূর করতেও সাহায্য করবে। এজন্য আপনি গাঁদা ফুলের তেল ত্বকে ও আক্রান্ত স্থানে লাগাতে পারেন, কয়েকদিন ব্যবহার করলে এতে আপনার চুলকানি ও দাউদের সমস্যা দূর হতে সাহায্য করবে।

সরষে বীজঃ এর মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা ক্ষতস্থান শুকাতে দ্রুত কাজ করে থাকে এবং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক ও সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে থাকে। তাই এই ধরনের বীজগুলো প্রথমে নিবেন, এরপরে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপরে বীজগুলো সুন্দর করে বেটে নিতে হবে। এরপরে আক্রান্ত স্থানে লাগাবেন দাউদ দ্রুত সেরে যাবে।

করলার পাতাঃ এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকে যা আপনার ক্ষতস্থান সারাতে দ্রুত কাজ করে থাকে। তাই বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক দূর করার জন্য এই করলার পাতার রস আক্রান্ত স্থানে লাগানো যেতে পারে। আপনার আক্রান্ত স্থানে করলা পাতা বেটে রস বের করে লাগাবেন এতে আপনার দাউদ দূর হয়ে যাবে।

চা গাছের তেলঃ এর মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে যা আপনার বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক এবং সংক্রমনের বিরুদ্ধে কাজ করবে। তাই দাউদ দূর করার জন্য এই তেলটি ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য আক্রান্ত স্থানে দিনে দুইবার ব্যবহার করবেন এবং সপ্তাহখানেক ব্যবহার করলেই ভালো ফলাফল পাবেন।

উপরোক্ত এই ঘরোয়া উপাদান গুলো থেকে প্রথমে একটা করে ব্যবহার করতে থাকবেন, যেটাতে কাজ হবে সেটাই ব্যবহার করবেন। আর যেটা কাজ হবেনা সেগুলো বাদ দিতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪