ডিম খেলে কি ওজন কমে নাকি বাড়ে জেনে নিন

ছোট থেকে বড় সবাই ডিম খেতে পছন্দ করে কিন্তু যাদের ওজন বেশি তারা ডিম খাবেন কিন্তু ডিম খেলে কি ওজন কমে? এ সম্পর্কে জানা খুবই প্রয়োজন। চলুন, কিভাবে ডিম খেলে ওজন কমাতে পারবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
ডিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে যা আমাদের শরীরের প্রচুর পরিমাণ দেখা দেয়। বিশেষ করে এই শীতকালে অতিরিক্ত ডিম খাবেন না, এদের শরীরে ক্ষতি হবে। তাই ডিম খেলে কি ওজন কমে? এ সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পোস্টসূচিপত্রঃডিম খেলে কি ওজন কমে নাকি বাড়ে জেনে নিন

ডিম খেলে কি ওজন কমে

ডিম খেতে সবাই পছন্দ করে কিন্তু কিভাবে খেলে ওজন কমবে সে সম্পর্কে তাই ডিম খেলে কি ওজন কমে? এ সম্পর্কে জানলে আপনি ওজন কমাতে পারবেন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

অনেকে জানতে চায় যে সিদ্ধ ডিম খেলে ওজন কমবে, নাকি ডিম ভেজে খেলে ওজন বাড়বে। তাই ডিম সাধারণত সিদ্ধ করে খাবেন, এতে উপকার পাওয়া যাবে। কখনোই ভেজে খাবেন না, কেননা ভাজা ডিমের স্বাদ যদিও ভালো লাগে কিন্তু এর মাঝে প্রচুর ক্যালরি রয়েছে। তাই চেষ্টা করবেন সিদ্ধ করে খাওয়ার অথবা পোজ করে খাওয়ার। তবে এক্ষেত্রে তেল না দিয়ে অলিভ অয়েল দিতে পারেন, তেলের পরিমাণ সবসময় কম দিতে হবে।

তাছাড়া শাকসবজির সাথেও ডিম দিয়ে খাওয়া যেতে পারে, যেমন পালন শাক দিয়ে খেতে পারেন। কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন পাওয়া যায়। এছাড়াও টমেটোর মাঝে ডিম মিশ্রিত করে খাওয়া যেতে পারে। এতে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ভালো কাজ করবে। প্রতিদিন আপনি ডিম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার ডায়েট ভালো থাকবে এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।

নাস্তার ক্ষেত্রে ডিম খেতে পারেন এজন্য ওজন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণা থাকবে। কেননা আপনার ক্ষুধা কম লাগবে, কারণ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। আপনি সকালের নাস্তায় যদি খেতে পারেন, তাহলে আপনার অন্য খাবারের প্রতি আকর্ষণ কম থাকবে, যার কারণে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে না। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ দিনে দুই থেকে তিনটি ডিম খেলে ক্ষতি হবে না। এক্ষেত্রে বেশি ক্যালরি হবে না, এতে আরো পরিমাণ মত প্রোটিন পাবেন।

আপনি যদি ওজন কমাতে চান সেক্ষেত্রে প্রোটিন জাতীয় খাবার গুলো খেতে হবে। এজন্য ডিম খাওয়া যেতে পারে, কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন থাকে যা দেহের শক্তি যোগাবে, পেশি শক্তিকে শক্তিশালী করবে, এছাড়াও ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

যদি আপনি ওজন কমাতে চান, এজন্য কম ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতে পারেন। যেমন ডিম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর মধ্যে প্রোটিনের মাত্রা বেশি হওয়ার কারণে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং বাড়তি ক্যালোরি ঝরে ফেলতে সাহায্য করবে। তবে অবশ্যই সেদ্ধ ডিম খেতে হবে।

এর মধ্যে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ আরো অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে ক্যালোরি এবং অতিমাত্রার পুষ্টি উপাদান থাকে যা আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে। তাই আপনি নিয়মিতভাবে সিদ্ধ ডিম খেতে পারেন।

ডিম সাধারণত প্রোটিন যুক্ত খাবার, এর মধ্যে প্রায় ৬ গ্রাম পরিমাণ প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে, যা কারনে অন্য কোন খাবারের প্রতি আকর্ষণ থাকেনা এজন্য ওজন কমে যায়। ডিমের কুসুমে ভিটামিন বি থাকে ও অ্যামাইনো এসিড থাকে, এই উপাদান গুলো পেশিকে শক্তি শালী করতে সাহায্য করে।
এর কুসুমের মধ্যে আছে কোলিন যা আপনার মেটাবলিজম ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা আপনার ওজন কমতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি উপাদান থাকে যা আপনি খেতে পারেন, আবার ভিটামিন বি এর জন্য উপকার করে থাকে।

ডিমের সাদা অংশ যদি খান, তাহলে একটু পরেই দেখবেন খিদে লাগবে। যার কারণে আপনাকে আবার খাওয়া লাগবে তাহলে কিন্তু আরো ওজন বেড়ে যাবে কিন্তু ডিমের কুসুম যেহেতু স্বাস্থ্যকর ফ্যাট আছে যা আপনার ওজন বাড়াবে না বরং অনেকক্ষণ পেট ভর্তি রাখবে। এজন্য বাহিরের আজেবাজে জিনিস খাওয়ার প্রতি আগ্রহ হবে না, এতে আপনার ওজন কমবে।

আপনি যদি সকাল বেলা খালি পেটে ডিম খেয়ে থাকেন, তাহলে সারাদিন খুবই কম ক্ষুদা লাগবে। কারণ এর মাঝে ভিটামিন বি-১২ এবং ডি আছে। এছাড়াও এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ আয়রন পাওয়া যায়, যা একজন গর্ভবতীর অনেক উপকার করবে।

আপনি যদি প্রতিদিন সালাদ খেতে পছন্দ করেন সেক্ষেত্রে ডিম সিদ্ধ করে কুচি কুচি করে কেটে সালাদের সাথে মিক্সড করে খেতে পারেন। এতে আপনি অনেক উপকার পাবেন কেননা এতে ক্যালোরি কম থাকবে যার কারণে ওজন কমতে সাহায্য করবে। তবে এর সঙ্গে আরো কিছু নিতে পারেন যেমন গোলমরিচ ও লেবুর রস মিশাবেন, তাহলে ডিমের পুষ্টিগণ নষ্ট হবে না। এভাবে খেলে আপনার মেদ অনেকটা কমে যাবে।

এর সাথে আপনি ওটমিল খেতে পারেন, কেননা এটা আপনার বাড়তি কোলেস্টেরল ও ট্রাই গ্লিসারাইড এর বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। তাই এর সাথে যদি আপনি ডিম খেতে পারেন তাহলে বাড়তি কোলেস্টেরল ও ট্রাই গ্লিসারাইড সম্ভাবনা কম থাকবে। এতে আপনার ওজন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ডিম অনেক উপকার কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া যাবেনা এতে শরীরে ক্ষতি হবে। অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার কারণে ভুড়ি হয়ে যেতে পারে। কারণ প্রচুর পরিমানে প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীরে চর্বি ও মেদ হতে পারে। কারণ একটি ডিমের মধ্যে যে ক্যালোরি থাকে তা অতিরিক্ত খেলে ক্যালরি বেড়ে যাবে। তাই পরিমাণ মতো খেতে হবে তাহলে ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

অনেকেই শুধু ডিমের সাদা অংশ খেতে পছন্দ করেন তাই খেতে পারবেন। তবে ডিমের এই সাদা অংশের মধ্যে প্রোটিন, এলবুমিন এছাড়াও কোলেস্টেরল ইত্যাদি থাকে। তাই যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে ডিম সিদ্ধ করে খেতে পারেন। আবার যাদের শরীরে এলবুমিনের পরিমাণ কম থাকে তারা খেতে পারেন কিন্তু যাদের শরীরে এলবুমিন বেশি আছে তাদের সিদ্ধ ডিমের সাদা অংশ খাওয়া যাবে না। তবে ব্লাড প্রেসার এর সমস্যা যাদের আছে তারা সেদ্ধ ডিম খেতে পারবেন।

যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে ভাজা ডিম খাওয়া যাবে না, কারণ সেদ্ধ ডিমের থেকে ভাজা ডিম বেশি ক্ষতি করে থাকে। যাদের ওজন বেড়ে যায় তাদের সাধারণত কুসুম বাদ দিয়ে ডিম খাওয়া লাগবে।

পুষ্টিবিদদের মতে ওজন কমানোর জন্য ডিমের তেমন একটি ক্ষতি করে না, তবে তেল, মশলা দিয়ে যদি ভাজতে থাকেন সেক্ষেত্রে ডিমের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও ডিম আপনি রান্না করে খেতে পারেন অথবা ভেজেও খেতে পারেন,তবে তেল মশলা কম দিয়ে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪