হলুদ দিয়ে ফর্সা হওয়ার ১০ টি উপায় সম্পর্কে জানুন
হলুদকে প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়ে থাকে, তাই হলুদ দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানা থাকলে আপনার উপকার হবে। চলুন, কিভাবে ত্বকে হলুদ লাগালে আপনার ত্বককে ফর্সা করতে পারবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেক নারী সাধারণত ত্বক ফর্সা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে, যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের এলার্জি সমস্যা এবং ত্বক পাতলা হয়ে যায়। তাই হলুদ দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃহলুদ দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানুন
হলুদ দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়
অনেক নারী নিজের চেহারা ফর্সা করার জন্য বিভিন্ন কিছু ব্যবহার করে থাকে। সে ক্ষেত্রে হলুদ দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় সম্পর্কে জানলে প্রাকৃতিক ভাবে ফর্সা হতে পারবেন। চলুন, এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
হলুদ ও ময়দাঃ হলুদ এবং ময়দা ত্বকের ক্ষেত্রে খুবই উপকার করে থাকে। এটি প্রাকৃতিক উপাদান যা আপনার ত্বকের ক্ষতি করবে না বরং উপকার করবে। এটা আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা ভাবটা কমিয়ে আনবে।
হলুদ ও ময়দার সাথে সামান্য পানি মিক্সড করে নেবেন, উজ্জ্বল ও কোমল ত্বক এর ক্ষেত্রে আপনার ত্বকের চারদিকে লাগাবেন। এরপরে যখন শুকিয়ে যাবে তখন পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন আশা করি ভালো ফলাফল পাবেন।
হলুদ ও মধুঃ এই দুটি উপাদান প্রাকৃতিকগত উপাদান বলা হয়ে থাকে যা আপনার ত্বকের ভিতরে আর্দ্রতা রক্ষা করবে এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে। এক্ষেত্রে আপনি হলুদ ও মধুর মিশ্রণ করে ব্যবহার করতে পারেন।
যেহেতু মধুর মধ্যে প্রাকৃতিকগতভাবে ত্বককে উজ্জ্বল করার জন্য এবং আদ্রতা রক্ষা করার জন্য উপাদান রয়েছে। তাই মধু ও হলুদের পেস্ট তৈরি করে আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন।
হলুদ ও নারিকেল তেলঃ এর মধ্যে আছে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান, এছাড়াও নারিকেলের তেল সাধারণত মশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে থাকে। এজন্য খাটি নারিকেল তেলের সাথে হলুদের গুঁড়া মিক্সড করে নিবেন। এতে আপনার ত্বকের লালচে ভাব সংক্রমণ ও শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করবে। ত্বক পরিষ্কার করে মুছে নিতে হবে এবং পাতলা ভেজা কাপড় দিয়ে ত্বককে প্রাণবন্ত করতে হবে।
হলুদ ও পানিঃ অনেকের ত্বকে অবাঞ্ছিত লোম হয়ে থাকে, এটা কমানোর জন্য হলুদ ও পানির মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন। যে স্থানে আপনার অবঞ্চিত লোম হয়েছে সেখানে হলুদ ও পানির মিশ্রণটি লাগিয়ে দিবেন। এতে ত্বক যখন শুকিয়ে যাবে তখন পরিষ্কার করবেন। আশা করি আপনার এই ধরনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
হলুদ ও জলপাইয়ের তেলঃ হলুদের মধ্যে প্রাকৃতিকগত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আপনার ত্বকের তারুণ্য ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। এছাড়াও ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা রক্ষা করবে।
হলুদ ও জলপাই তেল মিক্সড করে নিয়ে মুখে বা গলায় লাগাবেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর হালকা মালিশ করতে পারেন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
ব্রণ কমায়ঃ আপনার ত্বকে যদি ব্রণ উঠে থাকে কমানোর জন্য পরিমাণ মত হলুদ বাটা নিবেন। এক চামচ বেসন অথবা চালের গুড়া, এর মধ্যে দুই চামচ টক দই অথবা দুধ অথবা অলিভ অয়েল, নারিকেলের তেল ব্যবহার করতে পারেন। তার সাথে এক চামচ মধু দিলে আরো ভালো হবে। এই সকল কিছু মিক্সড করে নিয়ে আপনার মুখে ১৫ মিনিট রেখে দিবেন এরপর ধুয়ে ফেলবেন।
ত্বকের প্রদাহ কমায়ঃ যাদের ত্বক খুবই সেনসিটিভ যা একটু কারণেই দেখা যায় মুখে জ্বালাপোড়া করে, লালচে হয়, চুলকানি শুরু হয়। এটা শীতল করার জন্য এক চামচ পরিমাণ হলুদের বাটা নিবেন তার সাথে আধা চামচ পরিমাণে অ্যালোভেরার জেল, এরপর এক চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। এভাবে মিশ্রণটা তৈরি করবেন এরপর আপনার মুখে লাগাবেন, দশ মিনিট রেখে দেওয়ার পরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ত্বক উজ্জ্বল রাখবেঃ যাদের মুখ খুবই ক্লান্তকর লাগে এবং উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়, মলিনতা দেখায় তাদের ক্ষেত্রে এই হলুদ ব্যবহার করা যেতে পারে। এজন্য ২ চামচ ময়দা এক চামচ হলুদ বাটা, অয়েল, দুধ এর সাথে মিশিয়ে নিয়ে পেস্ট তৈরি করবেন। এরপর তিন চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে ক্রিমের মত মসৃণ করে ত্বকে লাগাবেন ত্বকে লাগাবেন। ১৫ মিনিট রাখার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চোখের নিচে কালো দাগ দূর হবেঃ যাদের চোখের নিচে কালো দাগ রয়েছে তারা এই হলুদ ব্যবহার করতে পারেন, এতে ভালো উপকার পাবেন। এজন্য হলুদ বাটার সাথে ২ চামচ মধু মিশিয়ে নেওয়া লাগবে।
তারপর দুই চামচ টক দই, হলুদ বাটার সাথে নিবেন এবং এক চামচ চালের গুড়া, এক চামচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি হাতে বা পায়ে ও মুখে লাগাবেন, ২০ মিনিট পরে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর এই মিশ্রণটির মুখে লাগানো যেতে পারে, তাহলে আশা করি চোখের নিচে কালো দাগ দূর হয়ে যাবে।
চর্মরোগ দূর করতেঃ অনেকের চুলকানি, খোশ পাঁচড়া এ ধরনের চর্মরোগ গুলো বেশি দেখা যায়, সে ক্ষেত্রে হলুদ ভালো কাজ করে থাকে। এজন্য হলুদের সাথে নিমপাতা ভালো করে বেটে নিতে হবে। এরপরে আপনার যেখানে চুলকানি হয়েছে সেখানে লাগাবেন।
পরপর কয়েকদিন ব্যবহার করেন, তাহলে চর্মরোগ ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া যারা এই সমস্যায় ভুগছেন, তারা সকাল বিকালে খালি পেটে এই হলুদের টুকরাও খেতে পারেন। কয়েক সপ্তাহ এভাবে যদি নিয়ম মেনে খেতে পারেন তাহলে সুস্থ হবেন।
ত্বকে হলুদ ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু ভুল হলে, এক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তখন ত্বকের উজ্জ্বলতার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা যেতে পারে।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url