কাঁচা আদা খাওয়ার উপকারিতা কি ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
কাঁচা আদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এটা বিভিন্ন ধরনের রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে। তাই কাঁচা আদা খাওয়ার উপকারিতা কি? তা জানা প্রয়োজন। চলুন, আদা খেলে কি উপকার হবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
আমরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা হিসাবে আদা খেতে বলি। যা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকার। এই আদা খাওয়া যেতে পারে, তাই কাঁচা আদা খাওয়ার উপকারিতা কি? সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃকাঁচা আদা খাওয়ার উপকারিতা কি ও অপকারিতা সম্পর্কে জানুন
কাঁচা আদা খাওয়ার উপকারিতা কি?
কাঁচা আদা প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। তাই কাঁচা আদা খাওয়ার উপকারিতা কি? এ সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। চলুন এ বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
ওষুধ হিসাবে আদার ব্যবহারঃ আগের যুগের লোকজন প্রাকৃতিক চিকিৎসা করতেন, তার মধ্যে আদা দিয়েও চিকিৎসা করতেন। তাই এর গুরুত্ব রয়েছে, কেননা হজমের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। এছাড়াও বমি ঠান্ডা সর্দি কাশি এর বিরুদ্ধে উপকার করে।
বমি বমি ভাব দূর করবেঃ অনেকেরই বমির সমস্যা হয়ে থাকে, এজন্য আদা খেতে পারেন। কেননা এটা পেটের এই ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রের ব্যথা কমাতে পারে। এজন্য আদা চা খেতে পারেন। এতে আপনার বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার ক্ষেত্রে রক্ষা করবে। এছাড়াও ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে আপনি আদা চা খেতে পারেন। তা যদি সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে এক টুকরা আদা চিবিয়ে খেতে পারেন খেতে অনেক উপকার পাবেন।
ওজন কমাতে সাহায্য করবেঃ আপনি যদি ওজনের সমস্যা ভুগতে থাকেন সেক্ষেত্রে ওজন কমানোর জন্য আদা খেতে পারেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে আদা ওজন কমানোর জন্য দ্রুত কাজ করে থাকে। তাছাড়া স্থূলতা, মেদ, ভুঁড়ি যাদের বেশি হয়ে গেছে তারা নিয়মিতভাবে আদা খেতে পারেন।
ব্যথা কমাতে পারেঃ আমাদের সারাদিন কাজের কারণে বা বিভিন্ন পরিশ্রমের কারণে জয়েন্টে ব্যথা হয়ে থাকে বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হয়ে থাকে। এই ব্যথা কমানোর জন্য আদা খাওয়া যেতে পারে। কেননা গবেষণায় দেখা গেছে যে আদা ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। এজন্য এটা যদি কেউ তিন থেকে চার বার সপ্তাহ খেতে পারেন। তাহলে আপনার হাঁটুর ব্যথা বা শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা কমে যাবে।
শ্বাস যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো করেঃ অনেকেরই কাশি বা সর্দি লেগেই থাকে এতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যা দূর করার জন্য আদা দিয়ে গরম পানি করে খেতে পারেন অথবা এর ভাপ নিতে পারেন। এতে দেখবেন আপনার শ্বাসতন্ত্রকে ভালো রাখবে এবং ফুসফুসের অতিরিক্ত যে স্লেশমা হবে সেটা দূর করতে সাহায্য করবে।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণঃ আপনার শরীরে যদি খারাপ কোলেস্টেরল থাকে সেটা কমানোর জন্য আদা খেতে পারেন। কেননা এক গবেষণায় দেখা গেছে এবং কিছু ট্রায়ালের পদ্ধতির মাধ্যমে দেখা গেছে যে আদা খাওয়ার কারণে ট্রাই গ্লিসারাইড এবং এলডিএল খারাপ কোলেস্টেরল গুলো কমাতে সাহায্য করেছে।
হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ এর মধ্যে এক ধরনের ফাইবার থাকে যা আপনার হজম শক্তিকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এর মধ্যে জিঞ্জেরল নামক উপাদান থাকার কারণে যা আপনার হজম শক্তির ক্ষেত্রে ভালো কাজ করবে। এটা আপনার খাবার দ্রুত গতিতে হজম করতে পারবে।
এছাড়াও আদা পেটের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং বদ হজম প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও পেট ফোলা বা পেট ফাপা দূর করতে পারে। তাই হজম ক্রিয়ার উন্নতি ঘটার জন্য আদা খাওয়া যেতে পারে, এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য যাদের রয়েছে তারাও আদা খেতে পারেন।
গ্যাস্ট্রিক কমায়ঃ যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা আদা খেতে পারেন। এতে আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটা দূরীভূত হবে। কারণ এক গবেষণায় দেখা গেছে আদা পাচক এনজাইম অর্থাৎ অ্যামাইলেজ, লাইপেজ, প্রোটিয়েজ বৃদ্ধি করতে পারে।
এই এনজাইম গুলো যথাক্রমে কার্বোহাইড্রেট ফ্যাট এবং প্রোটিনের ভাঙ্গন প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যার কারণে খাদ্য ভাঙ্গল সম্পন্ন করতে পারে এবং বদ হজম সমস্যা কমে যায়। পেটের গ্যাস্ট্রিক কমে যায় এবং অসুস্থ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি প্রভাবঃ এর মধ্যে আছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি জৈব যা আপনার পেটের প্রদাহ এবং এসিড রিফ্লাক্স গ্যাস্ট্রাইটিস, আইবিএস এর সমস্যাগুলো দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করেঃ এর মধ্যে প্রোবায়োটিক নামক উপাদান থাকার কারণে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে এবং খারাপ ব্যাকটেরিয়া গুলো দূর করতে সাহায্য করে থাকে। তাই খাদ্য হজমের ক্ষেত্রে এবং কার্যকারীদের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে।
স্নায়ুতন্ত্র ভালো রাখেঃ এর মধ্যে কিছু উপাদান রয়েছে যা আপনার স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে। এতে আপনার পেটে গ্যাসটিক হবে না এবং মেধা শক্তির শীতলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।
ব্যথা দূর করেঃ যেকোনো ধরনের ব্যথা দূর করতে আপনি আদা খেতে পারেন। কেননা এর মাঝে ফাইটো কেমিক্যাল উপাদান থাকে, যা আপনার শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এছাড়াও এর মধ্যে আরো কিছু বিশেষ উপাদান থাকে যা আপনার নিরসনের বিভিন্ন রোগ দূর করতে সাহায্য করে।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়ঃ এর মধ্যে প্রোটিন অথবা অন্যান্য যে পুষ্টিগুলো থাকে। তবে এটা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে ভালো কাজ করে থাকে। তাই আদা বিভিন্ন স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে, তাছাড়া ফ্রি রেডিকাল শরীর নিয়ে তাছাড়া হার্টের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং ব্যথা কমাতে পারে।
কেননা এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকে যা ফ্রী রেডিক্যাল থেকে মুক্ত করতে পারবে। এছাড়াও এর মধ্যে গ্যাস্ট্রোইনটেস্ট যা আপনার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করবে। যেমন কলরেক্টাল ক্যান্সার, প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সার ইত্যাদি।
ত্বকের সমস্যা দূর করেঃ এর মধ্যে প্রাকৃতিক কিছু গুনাগুন থাকে যাকে আমরা জিঞ্জেরল বলে থাকি। এটা শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে, এছাড়াও একজিমা, সোরিয়াসিস অনেকের হওয়ার কারণে ত্বকে ও শরীরে ব্যথা করতে পারে। তাই এই সমস্যার দূর করার জন্য আদা খাওয়া যেতে পারে।
এর মধ্যে থাকা এন্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণ করে এবং ব্রণের দাগও দূর করবে আদা ত্বকের অতিরিক্ত তেল উৎপাদনের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url