কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি ও কতটুকু খাওয়া উচিত
পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন ভাজা বাদামের চাইতে কাঁচা বাদামের উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। তাই কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি? সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। কাঁচা বাদাম খেলে যে উপকার গুলো মিলবে সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
কাঁচা বাদাম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার তবে যাদের পেটের সমস্যা রয়েছে। তাদের পেটের সমস্যা আরো বেশি হতে পারে। সেজন্য না খাওয়াই ভালো, তাই কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি? সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃকাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি ও কতটুকু খাওয়া উচিত
কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি
বাদাম খাওয়া শরীরের জন্য অনেক উপকার এজন্য কাঁচা বাদাম খেতে পারেন। এটা আরো বেশি উপকার পাবেন। তাই কাঁচা বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি? সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে নিম্নে আলোচনা করা হলো।
এর মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, আয়রন ওমেগা-৩, ভিটামিন ই ইত্যাদি। এর প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকার কারণে তা আপনার শরীরে হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি করবে, মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াবে এবং এর পুষ্টির কারণে শরীরের মাংসের পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। চলুন, এর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
কাঁচা বাদামে প্রোটিন থাকেঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা আমাদের শরীরের মাংস তৈরি এবং শরীরের গঠন করতে সাহায্য করে। এজন্য আপনি নিয়মিতভাবে এই কাচা বাদাম খেতে পারেন। এতে আপনার হার্টের সমস্যা, ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার এছাড়া আরো বড় ধরনের রোগ ব্যাধি থেকে রক্ষা করবে।
কাঁচা বাদামে ক্যালসিয়ামঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে যা আপনার হাড় গঠন ও হাড়কে মজবুত করবে। এজন্য গর্ভবতীদের জন্য এই কাঁচা বাদাম খাওয়া যেতে পারে। কারণ এর মাঝে ক্যালসিয়াম থাকার কারণে গর্ভস্থ শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও বয়স্ক লোকেরাও খেতে পারেন কেননা বয়স্ক লোকেদের সাধারণত হাটু দুর্বল হয়ে যায় বা ক্ষয় হয়ে যায়, সেজন্য এ জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া যেতে পারে।
আয়রনের অভাব দূর করেঃ গর্ভাবস্থায় সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের আয়নের প্রয়োজন হয়। এতে বাচ্চার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভালো উপকার করে থাকে, এজন্য খাবারের ক্ষেত্রে আপনি কাঁচা বাদাম খেতে পারেন।
কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে যা একজন গর্ভবতীর রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এটা রক্তের লোহিত কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও কেউ যদি নিয়মিতভাবে কাচা বাদাম খেতে পারে তাহলে তার বয়স তারুণ্য দেখাবে।
শারীরিক ব্যায়ামের ক্ষেত্রে কাঁচা বাদামঃ যারা প্রতিনিয়ত জিমে ব্যায়াম করেন অথবা শারীরিক ব্যায়াম করে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিনের প্রয়োজন হয়। এজন্য কাঁচা বাদাম খাওয়া যেতে পারে। তাহলে তাদের শরীরে যে ঘাটতি হবে সেটা পূরণ হতে সাহায্য করবে। তবে যাদের পেটের সমস্যা রয়েছে বা হজম প্রক্রিয়ার সমস্যা রয়েছে তারা কাঁচা বাদাম খাবেন না, এতে আরো ডায়রিয়া হতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ পুষ্টিবিদদের মতে নিয়মিত কেউ যদি কাঁচা বাদাম খায়, তাহলে তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকে যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে। তাহলে বড় ধরনের কোন রোগব্যাধি আপনাকে আক্রমণ করতে পারবে না।
এছাড়াও এটা হাড় গঠন ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও ভালো কাজ করে থাকে। কেননা এর মধ্যে ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন জাতীয় বিভিন্ন ধরনের উপাদান রয়েছে।
ব্যথা দূর করেঃ দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে যারা শারীরিক পরিশ্রম করে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে শরীরের ব্যথা করে থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনার কাঁচা বাদাম খাওয়া যেতে পারে। এতে আপনার শরীরের ব্যথা দূর হয়ে যাবে।
কেননা এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই ইত্যাদি রয়েছে। এজন্য আপনার জয়েন্টের ব্যথা বা কোমরের ব্যথা যাদের রয়েছে, তারা নিয়মিত ভাবে কাঁচা বাদাম খেতে পারেন। এছাড়াও এটা খেলে স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
কোলেস্টেরলের নিয়ন্ত্রণঃ এটা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও কাঁচা বাদাম খেতে পারেন এটা আপনার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
যেহেতু কাঁচা বাদামের মধ্যে ফ্যাট ও ক্যালোরি আছে, তাই অল্প খাবেন। অতিরিক্ত খেলেই আপনার শরীরে ক্ষতিকর হবে।
এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে যা শরীরের শক্তি যোগাবে, এছাড়াও শরীরে পানি শূন্যতা দূর করবে। তাছাড়া আরো অনেক ধরনের উপকার করে থাকে, তাই কাচা বাদাম পানিতে ভিজিয়ে খেলে পানি স্বল্পতা দূর হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ কাঁচা বাদাম রক্তের শর্করার নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে কিন্তু সকাল বেলা ভিজিয়ে খেতে হবে। তাহলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করবে, তাই যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে। তারা সকালবেলা ৫০ গ্রাম কাঁচা বাদাম ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এতে আপনার সমস্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url