ছেলে বা মেয়েদের ত্বকের মেছতা দূর করার উপায় জানুন
নারী বা পুরুষ অনেকেরই ত্বকে মেছতা হয়ে থাকে। তাই ত্বকের মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে যদি ধারণা রাখেন, তাহলে আপনার ত্বকের মেছতা দূর করা সম্ভব। চলুন, কিভাবে মেছতা দূর করবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকেই ত্বকের মেছতার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। এতে আরো ত্বক এলার্জি সমস্যা হয়ে থাকে এবং লাল হয়ে যায়, চুলকানি হয়। এই জন্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে মেছতা সেড়ে তুলুন। তাই ত্বকের মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃছেলে বা মেয়েদের ত্বকের মেছতা দূর করার উপায় জানুন
ত্বকের মেছতা দূর করার উপায়
অনেকের ত্বকে মেছতা দেখা যায় যে কারণে টেনশন হয়। তাই ত্বকের মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানলে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে মেছতা দূর করতে পারবেন। চলুন, কিভাবে মেছতা দূর করা যায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
লেবুর রসঃ এর মধ্যে থাকে ব্লিচিং যা আপনার ত্বকের যে কোন কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করবে। তবে এক্ষেত্রে কখনোই লেবুর রস সরাসরি মুখে লাগাবেন না। এর সাথে ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া হলুদের গুড়া ও মধু মিশিয়েও এটা ব্যবহার করা যাবে। এই মিশ্রণটি কয়েক দিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের মেছতা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।
হলুদঃ হলুদ কে বলা হয় প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক যা রূপচর্চার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। কেননা এর মাঝে এক ধরনের কার্কিউমিন নামক উপাদান থাকে, যা ত্বকের জন্য ভালো উপকার করে থাকে। এতে মূলত এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আপনার ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করবে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে যে ত্বকের মেলানিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাধা দিয়ে থাকে এই কার্কিউমিন। আর তাছাড়া এটা মেছতা দূর করতেও সাহায্য করে থাকে এবং ত্বকের বিভিন্ন ধরনের দাগ তুলতে সাহায্য করে।
জয়ফলঃ এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান, যা আপনি ফলটিকে ব্লেন্ডারে গুড়া করে নেওয়ার পরে ত্বকে লাগাবেন। এতে আপনার ত্বকে ব্যথা এবং মেছতার দাগ দূর করবে। এছাড়াও ত্বককে উজ্জ্বল করবে, তাই এটা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
এজন্য একটি বাটির মধ্যে এক চামচ মধুর সাথে এই জয়ফল গুড়া মিশ্রিত করবেন। কেননা মধুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড থাকে যা আপনার ত্বকের আদ্রতা রক্ষা করবে। এই মিশ্রণটির মধ্যে দুই তিন ফোটা লেবুর রস দিতে পারেন। এতে আপনার মেছতা দূর করবে, এ ছাড়াও ত্বককে ভালো রাখবে।
এছাড়াও এই জয়ফলের পাউডারের মধ্যে ১ চামচ টমেটোর রস দিতে পারেন। কেননা এর মাঝে যে উপাদান থাকে তাহল বিটা ক্যারোটিন যা আপনার ত্বকের এই দাগ দূর করতে সাহায্য করবে, এছাড়াও ত্বকের নতুন সেল সৃষ্টি করবে।
এরপরে আপনার মুখ ক্লিনজার দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিবেন। এরপরে যখন আপনার মুখটা শুকিয়ে যাবে তখন পানি দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নেবেন। তবে সাধারণত ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলেই ভালো হবে। এরপরে মুখটা মুছে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
কাঠবাদামঃ এর মধ্যে এক ধরনের হাই প্রোটিন ও ভিটামিন সি থাকে যা আপনার ত্বককে কোমল ও উজ্জ্বল করবে। এছাড়াও ত্বকের পুষ্টি জোগাবে, এজন্য ২ চামচ এই বাদামের গুড়োর সাথে ১ চামচ মধু মিশ্রিত করে মুখে লাগিয়ে দিবেন। ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করলে আপনি উপকার পাবেন। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
পেঁপেঃ এর মধ্যে থাকে পেঁপেইন এনজাইম যা আপনি আপনার ত্বকে যদি ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে আপনার ত্বককে মেছতা হতে দূর করবে এবং কোষগুলোকে উজ্জীবিত করবে, মৃত কোষগুলো দূর করে দিবে। এজন্য আধা কাপ পেপের রস নিয়ে দুই চামচ মধু মিশ্রিত করতে পারেন।
এরপরে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দিবেন ২০ মিনিট মিনিট অপেক্ষা করার পর পানি নিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। এভাবে দিনে একবার করে ব্যবহার করতে পারেন, কিছুদিন ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন।
গ্লিসারিনঃ এর সাথে গুঁড়ো দুধ মিশ্রিত করে আপনার মেছতার উপর লাগাবেন, এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করতে থাকেন আশা করি উপকার পাবেন। কেননা এটা এমন একটি উপাদান যা আপনার ত্বকের যেকোনো ধরনের দাগ ও মেছতা তুলতে সাহায্য করবে।
আলুর পেস্টঃ আলু সুন্দর করে থেতলে নিতে হবে এবং রস বানিয়ে এর সাথে অ্যালোভেরা মিশ্রিত করে আপনার ত্বকে লাগাতে থাকবেন। এর মধ্যে যে উপাদানটি রয়েছে তা আপনার ত্বকের মেছতা তুলতে সাহায্য করবে ও ত্বককে উজ্জ্বল করবে।
কমলা লেবুর খোসাঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা আপনার বিভিন্ন ধরনের দাগ তুলতে সাহায্য করে থাকে। তাই কমলালেবুর খোসা গুড়া করে এর সাথে ১ চামচ পরিমাণ মধু মিশ্রিত করে আপনার মেছতায় লাগাবেন আশা করি ভালো ফলাফল পাবেন।
ভিনেগারঃ আপনার ত্বকের মেছতা দূর করার জন্য অল্প পরিমাণ ভিনেগার নিয়ে তাতে লেবুর রস মিশ্রিত করে প্রতিদিন মুখে লাগাতে পারেন। এভাবে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে আশা করি মেছতা দূর করতে সাহায্য করবে।
কুসুম গরম তেলঃ আপনার ত্বকের যেখানে মেছতা হয়েছে সে জায়গায় হালকা কুসুম গরম তেল দিয়ে হালকাভাবে ঘষতে পারেন, এই তেল অনেকক্ষণ যাবত ঘষতে থাকবেন। এভাবে কিছুক্ষণ রেখে দিবেন এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে নিতে পারেন, এভাবে নিয়মিতভাবে ব্যবহার করলে আশা করি আপনার মেছতা দূর করতে সাহায্য করবে।
সানস্ক্রিনঃ আমরা সাধারণত বিভিন্ন কাজের জন্য বাহিরে যাই, এক্ষেত্রে সূর্যের আলোকে আমাদের ত্বকের কালো দাগ হয়ে যায়। এছাড়াও ত্বকে ময়লা হওয়ার কারণে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের দাগ ও মেছতা দেখা যায়।
এজন্য অবশ্যই সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য আপনি সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন বাইরে যাওয়ার ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে নিতে পারেন, সেই সাথে রোদে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য ছাতা মাক্স ও সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url