মধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় ও কতটা নিরাপদ জেনে নিন

ওজন কমানোর জন্য হয়তো আপনি অনেক জিনিস খুঁজছেন তাহলে মধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে যদি জানতে পারেন। তাহলে অনেক উপকার হবে, চলুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
মধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় ও কতটা নিরাপদ জেনে নিন
অতিরিক্ত পেটের মেদ কমানোর জন্য লেবু ও মধু খাওয়া যেতে পারে তবে পরিমাণ মতো খেতে হবে। না হলে উপকারের চাইতে ক্ষতি বেশি হতে পারে। তাই মধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে জানলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

পোস্টসূচিপত্রঃমধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় ও কতটা নিরাপদ জেনে নিন

মধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায়

মধু প্রাকৃতিক ভাবে আমাদের শরীরে অনেক উপকার করে, তাই অনেকে ওজন কমাতে চান। এজন্য মধু দিয়ে ওজন কমানোর উপায় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানিয়ে নেওয়া যাক।

মধু যেহেতু প্রাকৃতিক গতভাবে মিষ্টি হয়ে থাকে, তাই ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিমাণ মতো খেতে হবে, তা না হলে রক্তের শর্করা বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে ভিটামিন, মিনারেল প্রচুর পরিমাণে থাকে যার কারণে চিনির মতো মিষ্টি লাগলেও এটা ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে।

কিন্তু আপনি যদি অতিরিক্ত চিনি খান সেক্ষেত্রে আরো চর্বি বা মেদ ও ওজন বেড়ে যেতে পারে। কেননা চিনি হজম করতে আমাদের সমস্যা হয় এবং ভিটামিন, মিনারেল খরচ করতে হয়। যার কারণে আমাদের পুষ্টির অভাব পড়ে। মধু ফ্যাট ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

যদি আমরা অতিরিক্ত চিনি খেয়ে ফেলি তখন অর্ধেক ক্যালোরে শরীরে জমা হতে থাকে। এছাড়াও এই চিনি হজম করতে অনেক কষ্ট হয় এবং অতিরিক্ত ভিটামিন, মিনারেল খরচ হওয়ার কারণে পুষ্টির ঘাটতি দেখা যায়। এজন্য দেখা যায় অনেক সময় ওজন বেড়ে যায়।

কিন্তু মধুর মধ্যে যেসব উপাদান থাকে যা হজমের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে এবং ফ্যাট, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এছাড়াও আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে। তাই সকাল বেলা উঠে যদি আপনি পানীয় জাতীয় কিছু খেতে পারেন। তবে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এর কারণে এ রকম শারীরিক পরিশ্রম করেও আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে এবং ওজন কমাতে সাহায্য পারে।

এজন্য সকাল বেলা উঠে যদি আপনি পানি খেতে পারেন, তাহলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

এজন্য সকালবেলা কুসুম গরম পানির মধ্যে লেবুর রস মিশাবেন এবং একটু মধু দিয়ে ফেলবেন। মধু দিয়ে এই রকম শরবত খেলে আপনার পেটের চর্বি কমতে সাহায্য করবে।

তবে একটা দিকে আপনাকে খেয়াল করতে হবে পানি কখনো গরম করে এর সাথে মধুর মিশ্রিত করে খাওয়া যাবেনা, এতে শরীরের ক্ষতি হবে।

মধু এক ধরনের শর্করা বা গ্লোকোজ জাতীয় খাবার চিনি বা ভাতের মতই শর্করা। যার কারণে এটা সহজে হজম করতে পারে না। এতে ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি থাকে যা খেলে আপনার ওজন তাড়াতাড়ি কমে যাবে।
দারুচিনি ও মধুঃ এর মধ্যে এন্টি মাইক্রোবিয়াল পুষ্টি উপাদান থাকার কারণে শরীরে যে কাজটা করে থাকে তা হল উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কোলেস্টেরল ঠিক রাখবে। এক্ষেত্রে প্রথমে দারুচিনি গুড়ো করে নেওয়া লাগবে, এবার জাল করে গরম পানিতে মিশে গেলে নামিয়ে ফেলতে হবে এবং এর মধ্যে মধু মেশাতে হবে।

মধু ও আদাঃ এ দুটি খাদ্যের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন থাকে। তাই অল্প পরিমাণ আদা পরিষ্কার করে নিবেন এবং একটি পাত্রের মধ্যে গরম পানি নেওয়া লাগবে। আদা গুলো কুচি কুচি করে কাঁটবেন, এরপর পানির মধ্যে ছেড়ে দিতে হবে। এরপরে যখন পানি ফুটে যাবে তারপর নামিয়ে পানিটুকু ভালো করে ছেকে নিতে হবে। এরপরে এর মধ্যে একটু মধু দিতে পারেন তাহলে স্বাদ লাগবে এবং উপকার হবে।

মধু ও গ্রিন টিঃ এই দুটোই অনেক উপকার, কেননা এর মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ থাকে। এই গ্রিন টিতে আমাদের শরীরের উপকার করবে। এটা দিনে তিন থেকে চারবার পর্যন্ত আপনি গ্রিন টি খেতে পারেন, এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

মধু ও গরম পানিঃ গরম পানির মধ্যে মধু দেওয়া যেতে পারে, এতে ওজন কমাতে ভালো কাজ করে থাকে। একটি পাত্রের মধ্যে গরম পানি নিবেন তারপরে পানিটুকু ফুটাবেন, এরপরে হালকা গরম যখন থাকে তখন এক চামচ মধু দিতে পারেন। এরপরে মিশ্রণটি যদি খেতে পারেন তাহলে আপনার ওজন কমবে।

লেবু ও মধুঃ এই দুটি উপাদানের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এছাড়া টক জাতীয় হওয়ার কারণে শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ গুলো বের করে দিতে পারে। এজন্য আপনি এক চামচ পরিমাণ লেবুর রসের সাথে একটু মধু মিশিয়ে যদি খেতে পারতেন তাহলে ওজন কমবে।

মধুর মধ্যে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ দুটি উপাদান ভিন্ন ভাবে থাকে কিন্তু চিনির মধ্যে দুটি উপাদান একসাথেই দেখা যায়। দ্রুতগতিতে গ্লুকোজ এর সাথে ক্যালোরি হিসেবে কাজ করে না। মধু সহজে ক্যালরি জমা হবে না, যার কারণে মধু খেলে ওজন বাড়বে না বরঞ্চ কমার সম্ভাবনা আছে।

আপনার শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফেলতে কমানোর জন্য প্রতিদিন প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম সহ একাধিক পুষ্টি জাতীয় খাবার গুলো খেতে হবে এবং শারীরিক ব্যায়াম করলে দ্রুত ওজন কমে যাবে।

প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মত অথবা সর্বনিম্ন ৩০ মিনিট হাঁটা লাগবে। যত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকবেন না, আপনার অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

এছাড়া শরীর কে সুস্থ রাখতে এবং ওজন যদি কমাতে চান সে ক্ষেত্রে প্রতি রাত্রিতে আট ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করবেন। নিয়মিতভাবে বিশ্রামও নেওয়া লাগবে, সারা দিনের ক্লান্তি ভাব থাকলে খাবার ঠিকমতো হজম নাও হতে পারে এতে সমস্যা বৃদ্ধি পায়। সুস্থ থাকতে চাইলে অবশ্যই রোজ ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে, তাহলে আপনার ওজন কমবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪