মুলতানি মাটি দিয়ে ত্বকের যত্ন ও ফর্সা হওয়ার উপায় জানুন

মুলতানি মাটি আমাদের ত্বকের জন্য খুবই উপকার করে, তাই মুলতানি মাটি দিয়ে ত্বকের যত্ন কিভাবে নিবেন সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাহলে আপনার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবে না। চলুন, মুলতানি মাটির ব্যবহার করার পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
আমাদের কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই ত্বকের যত্ন নিতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে মুলতানি মাটির ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দূর হবে। তাই মুলতানি মাটি দিয়ে ত্বকের যত্ন সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পোস্টসূচিপত্রঃমুলতানি মাটি দিয়ে ত্বকের যত্ন ও ফর্সা হওয়ার উপায় জানুন

মুলতানি মাটি দিয়ে ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্নের জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরনের উপাদান ব্যবহার করে থাকে মুলতানি মাটি অন্যতম। তাই মুলতানি মাটি দিয়ে ত্বকের যত্ন কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে, অনেকের ত্বকে ব্রণ উঠে বা মেছতা সহ বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে। যা ত্বকের আরো ক্ষতি হয়ে যায়, এজন্য প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের এই ধরনের সমস্যা দূর করার জন্য মলতানি মাটি ব্যবহার করতে পারেন।

এটা একটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ত্বকের সৌন্দর্যের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই এটা ব্যবহারের কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে এবং নিয়ম কানুন রয়েছে। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই মাটি ভালো কাজ করে থাকে, এই মাটির প্যাক তৈরি করতে পারেন। এটা আপনার মুখ থেকে অতিরিক্ত ময়লা এবং তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও এটা মুখের বিভিন্ন ধরনের দাগ দূর করতে এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। চলুন, এই মুলতানি মাটি কিভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নেওয়া যাক।

মুলতানি মাটি ও মধুঃ মধু প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা প্রাকৃতিক ভাবে অনেক উপকার করে থাকে। এর মাঝে এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান থাকে। যা আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে। তাছাড়া ত্বকের চুলকানি বা জ্বালা ভাব, একজিমা এবং ব্রণ সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যাগুলো সমাধান করবে।

তাছাড়া মুলতানি মাটি ও মধুর গুনাগুন অনেক রয়েছে যা আপনার ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করবে। এজন্য আপনি সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার এই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন।

এই মিশ্রণটি তৈরি করার জন্য পরিষ্কার একটি বাটির মধ্যে মুলতানি মাটি ও সামান্য মধু নিবেন এবং ভালো করে মিশ্রণটি মিক্সড করতে হবে। এরপরে পরিষ্কার ব্রাশ দিয়ে এই মিশ্রণটি আপনার মুখে ও ঘাড়ে লাগাবেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর মুখ ধুয়ে ফেলবেন। এতে হালকা গরম পানি ব্যবহার করলে ভালো হয়।

মুলতানি মাটি ও গোলাপজলঃ গোলাপজল ত্বকের ক্ষেত্রে ভালো উপকার করে থাকে ত্বকের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত তেল থেকে মুক্তি দিতে পারে। তাছাড়া ত্বকের বলি রেখা ব্ল্যাকহেডস ইত্যাদি দূর করতে পারে। এমনকি ত্বকের উজ্জ্বলতা লালচে ভাব এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। মুলতানি মাটি ও গোলাপজলের এই মিশ্রণটি প্রতি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভালো ফলাফল পাবেন।

এজন্য একটি পাত্রের মাঝে মুলতানি মাটি ও একটু গোলাপজল নিবেন ও পানি দিয়ে মিশিয়ে এই মিশ্রণটি তৈরি করতে হবে। একটি ব্রাশ নিয়ে এটা আপনার মুখে ও ঘাড়ে সুন্দর মত লাগাবেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপরে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

মুলতানি মাটি ও হলুদঃ হলুদ প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও এর মাঝে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার কারণে ত্বকের ব্রণ দূর করতে সাহায্য করবে। এমনকি ত্বকের বিভিন্ন ধরনের দাগ গুলো দূর করতে পারে।

এই মাটি ও হলুদের ফেসপ্যাকটি শুধু ত্বকের তৈলাক্ত ভাবই কমায় না, এটা ত্বকের উজ্জ্বলতার বৃদ্ধি করবে। এছাড়া মসৃণ করতে পারে তাই এটা সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।

এই মিশ্রণটি তৈরি করার জন্য একটি পাত্রের মাঝে হলুদ ও মুলতানি মাটি মিক্সড করে সামান্য পানি দিয়ে তৈরি করতে পারেন। এরপরে এই মিশ্রণটির মুখ ও ঘাড়ে ব্যবহার করতে পারেন। শুকিয়ে গেলে তারপরে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
এটা ত্বকের মৃত কোষগুলোকে দূর করতে পারে, এটি প্রাকৃতিক এন্টাসেফটিক হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে, ত্বকের রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এছাড়াও ত্বকের টান টান করতে পারে। চলুন, এটা কিভাবে ব্যবহার করলে আপনার উপকার হবে সে সম্পর্কে জানা যাক।

স্ক্রাবারঃ অনেকে বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের স্ক্রাবার ক্রয় করে মানুষ মুখে ব্যবহার করে থাকে। এতে ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। কেননা এর মাঝে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল থাকে যা আপনার ত্বকে ক্ষতি করবে। তাই এই ধরনের স্ক্রাবার ব্যবহার করবেন না। এতে প্রাকৃতিক উপায়ে মুলতানি মাটির সাথে বা কাজু বাদাম ব্যবহার করতে পারেন।

তৈলাক্ত ত্বকের যত্নেঃ যাদের মুখ অত্যন্ত তৈলাক্ত হয়ে থাকে, তাদের সাধারণত ত্বকে ব্ল্যাকহেডস হোয়াইটের ব্রণের দাগ গর্ত হওয়া বিভিন্ন ধরনের সমস্যা গুলো দেখা যেতে পারে। এজন্যই ত্বকের ক্ষেত্রে মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে এটা ব্যবহার করতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ব্ল্যাকহেড দূর হতে সাহায্য করবে।

শুষ্ক ত্বকের যত্নঃ আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় সেই ক্ষেত্রে ত্বককে পরিষ্কার করে এই মাটি দিতে পারেন। এতে এর সাথে অলিভ অয়েল মেশাতে পারেন তবে এটি ব্যবহার করার আগে অবশ্যই আপনার ত্বক কি ধরনের হতে পারে সেটা আপনাকে জানতে হবে। মুলতানি মাটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে এলার্জি যদি উঠে থাকে, এক্ষেত্রে বন্ধ করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

১ চামচ মুসুরের ডাল গুড়া করবেন তিন চামচ এই মাটি এক চামচ লেবুর রস প্রয়োজন মত শসার রস অথবা পানি মিশিয়ে নিবেন। এভাবে মিশ্রণটি আপনার যেখানে সমস্যা রয়েছে সেখানে লাগাবেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করবেন, এরপর গোসল করবেন। এতে আপনার ত্বক পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল দেখাবে।

অনেকের ত্বক রোদে পুড়ে যায় এবং উজ্জ্বলতা ভাব কমে যায়, সে ক্ষেত্রে এই মাটি ও শসার রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে বাহিরে যাওয়ার আগে আপনি মিশ্রণটি বাইরে থেকে এসে এই মিশ্রণটি ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভালো উপকার পাবেন, ২০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। এরপরে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। এটা আপনার ত্বকের সহজলভ্যতা এবং উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।

আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য এই মাটির সাথে এলোভেরা রস গোলাপ জল একসাথে মিশাতে হবে এবং আপনার ত্বকে লাগাবেন। এতে ২০ মিনিট অপেক্ষা করবেন এরপরে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। এতে আপনার ত্বকের ব্রণ দূর হবে এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

অনেকের ত্বক অল্প বয়সে বার্ধক্যের মতো দেখা যায়, এক্ষেত্রে এক চামচ এই মাটির সাথে টক দই এবং ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিবেন। এর পরে আপনার ত্বকে লাগাবেন এই ক্ষেত্রে ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে আপনার অনেক উপকার হবে, স্ক্রিন উজ্জ্বলতা দেখাবে।

আবার ত্বকের তৈলাক্ত দূর করার জন্য আরো একটি পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে সে ক্ষেত্রে এই মাটি বেসন ও টমেটোর মিশ্রণ করে নিয়ে আপনার ত্বকের লাগাতে পারেন। এতে তৈলাক্ত দূর হবে, এরপরে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে। তাছাড়া এটা ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগানোর পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আপনার ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্লান্তি ভাবের ছাপ দেখা যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে এটা দূর করার জন্য এই মাটির সাথে টক দই, ডিমের সাদা অংশ এবং কর্ণ ফ্লাওয়ার মিক্সড করে নিতে হবে। এরপরে এটি মুখে লাগাতে হবে তারপরে দেখবেন কিছুক্ষণ পর আপনার এই ত্বকের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে যাবে, এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।

শসার সাথে এই মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে এর সাথে আরো একটু গোলাপ জল যদি যোগ করতে পারেন। এতে আপনার ত্বকে যদি লাগাতে থাকেন সেই ক্ষেত্রে ত্বকের সুস্থতা এবং উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪