ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করার ১৩টি উপায় সম্পর্কে জানুন

অনেকের তৈলাক্ত ত্বক রয়েছে তাই ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানলে আপনার তৈলাক্ত ভাব দূর করার সহজ হয়ে যাবে। চলুন, কিভাবে আপনার মুখের ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে পারবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ছবি
অনেকে ত্বকের তৈলাক্ততা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। এতে ত্বকের আরো ক্ষতি হতে পারে, এই ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকগত উপাদান ব্যবহার করবেন। তাই ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

পোস্টসূচিপত্রঃত্বকের তৈলাক্ততা দূর করার ১৩টি উপায় সম্পর্কে জানুন

ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করার উপায়

অনেকের মুখ সব সময় তৈলাক্ত ভাব থাকে যার কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়। তাই ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করার উপায় সম্পর্কে জানলে আপনার সুবিধা হবে। চলুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

১। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে সাবান ব্যবহার করবেন না। হালকা ভালো মানের ফেসওয়াশ অথবা ক্লিনজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে মুখ পরিষ্কার হবে ময়লা থাকবে না আবার ঘরোয়া উপায় হিসেবে তুলসী পাতা, নিম পাতা, হলুদের নির্যাস এর মাধ্যমেও পরিষ্কার করতে পারবেন।

২। নিম ও তুলসী পাতার যে ফেস স্ক্রাব পাওয়া যায় সেটা যদি ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার তৈলাক্ততা ও ময়লা দূর করতে সাহায্য করবে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে পাবেন।

৩। আপনি যখন বাহিরে যাবেন সেক্ষেত্রে সূর্যের আলো থেকে ক্ষতি কারক রশ্মি আপনার ত্বকের লেগে সমস্যা দেখা দিবে। সে ক্ষেত্রে আপনি এটা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।

৪। ত্বকের সাধারণত মুখে বেশি ময়লা জমে থাকে কারণ এই অংশটি খোলা থাকে বেশি। বিষাক্ত বা মৃত কোষ গুলো দূর করার জন্য ও ত্বককে উজ্জ্বল করার জন্য হালকাভাবে ঘষতে পারেন এবং এতে ভাল একটি প্রতিকার পাবেন।

৫। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যাবে না, এটা অনেকেই হয়তো ধারণা করতে পারেন কিন্তু সব ধরনের ত্বকে যে এটা ব্যবহার করা যাবে না তা কিন্তু নয়। নিয়মিত ভাবে আপনি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের বলি রেখা এবং বয়সের ছাপ ও উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে। তাই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পাশাপাশি অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে, এতে ত্বক আর্দ্রতা থাকবে।

৬। অনেকেই যারা মেকআপ করে তাদের ক্ষেত্রে অসুবিধা হলো বৃষ্টি ও ঘামের কারণে মেকআপ টা গলে যেতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই মেকআপ করবেন না, হালকা মেকাপ করলে ভালো থাকবে এবং রাত্রিতে ঘুমানোর পূর্বে মেকআপ তুলতে হবে। তুলসী ও নিমপাতা এর ফেসওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে, এর কারণে আপনার ত্বকের ব্রণ ও লোমগুলো আবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
৭। গ্রিন টিঃ এর মধ্যে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা আপনার ত্বকের ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে এবং উজ্জ্বলতা তৈরি করতে পারে। তাই এটি পান করতে পারেন এবং এর মধ্যে লেবুর রস দিলে আরো ভালো হবে। তাছাড়া গ্রিন টির যে ব্যাগটা রয়েছে সেটা আপনি ফ্রিজে রেখে দিয়ে আবার পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন।

৮। মধুঃ মধু প্রাকৃতিকগতভাবে ত্বককে মশ্চারাইজার করতে পারবে। তাছাড়া তৈলাক্ত ভাব কমাবে, এছাড়াও এন্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকার কারণে ব্রণের সমস্যা দূর হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে মধু ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটা লাগানোর পর ৩০ মিনিট অপেক্ষা করবেন। হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নেবেন।

৯। লেবুর রসঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণ সাইট্রিক এসিড থাকে, যা এই ধরনের ত্বকের উপকার করে থাকে। এছাড়াও ত্বকের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে। লেবুর রস ত্বকের ছিদ্র শক্ত করতে পারে এবং তৈলাক্ত কমাতে ভালো কাজ করে থাকে। ১০ মিনিট লেবুর রস লাগিয়ে রেখে দিতে পারেন। এরপর গরম পানি দিয়ে ভাপ নিতে পারেন।

১০। আপেল সিডার ভিনেগারঃ এটা ত্বকের পি এইচ এর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে। এছাড়াও তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটা ব্যবহার করার জন্য সমান পরিমাণ পানি দিতে হবে, এরপর কয়েকটি তুলোর বল নিয়ে ব্যবহার করে আপনার মুখের ত্বক গুলো সুন্দর এবং উজ্জলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন।

১১। টি-ট্রি তেলঃ এর মধ্যে অ্যান্টিব্যাক্টরিয়াল উপাদান আছে, যা আপনার ত্বকে ব্রণ তৈরি করার ক্ষেত্রে যে ব্যাকটেরিয়া দায়ী করা হয়, সেটাকে কমাতে পারবে এবং ত্বকের প্রদাহ ও তৈলাক্ততা দূর করতে সাহায্য করবে। এই তেল পানিতে মিশাতে হবে পাতলা করে নিতে হবে, এরপরে তুলার মাধ্যমে আক্রান্ত স্থানে ভালো করে লাগাবেন, কিছুক্ষণ রেখে দেওয়ার পরে ধুয়ে ফেলবেন।

১২। অ্যালোভেরা জেলঃ এর মধ্যে হাইড্রেটিং বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও ব্যথা কমাতে পারে এটা আপনি মুখে সরাসরি লাগাতে পারবেন। পনের থেকে ২০ মিনিট রেখে দেওয়ার পরে ব্যবহার করা যেতে পারে।

১৩। মুলতানি মাটিঃ এই মাটি প্রাকৃতিক গত ভাবে অত্যন্ত সুন্দর এবং উপকারী যা আমাদের ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব শোষণ করতে পারবে। ত্বকের ছিদ্রগুলো থেকে ময়লা দূর করতে পারবেন। এছাড়াও এটা গোলাপ জলের সাথে যদি মিশিয়ে দিতে পারেন সে ক্ষেত্রে আপনার অনেক উপকার হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪