ঔষধ ছাড়া উকুন দূর করার ১৫ টি ঘরোয়া উপায়
সাধারণত নারীদের উকুন বেশি হয়ে থাকে, তাই উকুন দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানলে আপনার মাথার উকুন দূর করতে পারবেন। চলুন, কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে উকুন দূর করবেন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকেই উকুন দূর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু, সাবান, ঔষধ ব্যবহার করে থাকেন। যার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই উকুন দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃঔষধ ছাড়া উকুন দূর করার ১৫ টি ঘরোয়া উপায়
উকুন দূর করার ঘরোয়া উপায়
অনেকেই মাথা উকুন দূর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ঔষধ বা শ্যাম্পু সাবান ব্যবহার করেন কিন্তু উকুন দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানলে আপনি উকুন দূর করতে পারবেন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
১। টি ট্রি অয়েলঃ এই উপাদানটি অত্যন্ত উপকার করে থাকে। এটা আপনি ব্যবহার করে দেখতে পারেন ভালো উপকার পাবেন। এর মধ্যে এন্টিফাঙ্গাল ও এন্টি মাইক্রোবিয়াল থাকে যা উকুন বা যেকোনো ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে। এটা মূলত উকুনের ডিম নষ্ট করতে পারে। চলুন কিভাবে এটা ব্যবহার করেন সে সম্পর্কে জানা যাক।
আপনার স্ক্যাল্পে কয়েক ফোটা এই উপাদানটি দিবেন, এরপরে ভালো করে মাথা ঘষে নিবেন। তারপরে চুল বেঁধে রাখবেন, এভাবে দুই থেকে তিন ঘন্টা রেখে দেওয়ার পরে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। সপ্তাহে একবার করে ১ মাস ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের যদি অসুবিধা হয় সে ক্ষেত্রে বন্ধ করতে পারেন। আর যদি কারো এলার্জি সমস্যা থাকে তাহলে ব্যবহার করবেন না।
২। অলিভ অয়েলঃ এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা আপনার ও প্রাকৃতিক উপায়ে উকুন দূর করতে সাহায্য করবে এবং চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখবে ও চুলকে ভালো রাখবে। যেভাবে আপনি ব্যবহার করতে পারেন; চুলের গোড়ায় এই তেল লাগাবেন এবং ভালো করে ম্যাসাজ করবেন। এরপরে তোয়ালে বা কোন কিছু দ্বারা চুল বেঁধে রেখে ঘুমিয়ে যাবেন। পরে চিকন চিরুনি দিয়ে আঁচড়াবেন। এভাবে ব্যবহার করলে দেখবেন আপনার উকুন কমে গেছে।
৩। নিম পাতাঃ নিম পাতা অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান বিজ্ঞানীরা এটা বেশ কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এছাড়া আপনি নিম পাতার তেল ব্যবহার করতে পারেন অথবা নিম পাতা বেটে আপনার চুলে লাগাতে পারেন। এর মধ্যে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল, এন্টিভাইরাস, অ্যান্টিসেফটিক, মাইক্রোবিয়াল, এন্টিফাঙ্গাল ইত্যাদি উপাদান গুলো রয়েছে। যা আপনার উকুন দূর করতে সাহায্য করবে।
যেভাবে ব্যবহার করতে পারেন; অল্প পরিমাণ নিমপাতা নিবেন এটি ভালো করে পানিতে ফুটাতে হবে। এরপরে পানিগুলো ছেকে নিতে হবে আবার পাতাগুলো কেটে নিবেন এরপরে চুলে ভালো করে লাগাতে থাকবেন। দুই ঘন্টা চুল বেঁধে রাখবেন এরপরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। আশা করি ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে একবারে ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
৪। লেবুর রসঃ এর মধ্যে যে উপাদান থাকে তা যেকোনো ধরনের সংক্রমণ দূর করতে পারে এবং এটি ব্যবহার করতে পারবেন। কেননা এর মধ্যে যে এসিড থাকে তা এই ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তাই লেবুর রস বের করে মাথায় লাগাতে পারেন, ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করবেন। এরপরে চিরুনি দিয়ে উকুন দূর করতে পারবেন। তাই এটা ব্যবহার করতে পারেন।
৫। ভিনেগারঃ এর মধ্যে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে যা উকুন দূর করতে সাহায্য করবে। এটা মূলত উকুন কাছের বিষ মনে হবে, এজন্য আপনি আঙ্গুল দিয়ে এটা কিছু অল্প পরিমাণ নিয়ে মাথার ত্বকে লাগাতে থাকবেন এবং ম্যাসাজ করতে থাকবেন। ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করবেন আশা করি উপকার পাবেন।
৬। পেঁয়াজঃ এর মধ্যে থাকে সালফার যা এ ধরনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে। তাই কয়েকটি পেঁয়াজ নিবেন এরপরে বেটে রস বের করতে হবে। তারপরে আপনার মাথায় দিয়ে রাখবেন কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। সপ্তাহে দুই তিনবার এভাবে ব্যবহার করলে উকুন দূর হয়ে যাবে।
৭। রসুনের ব্যবহারঃ রসুনকে প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়ে থাকে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কয়েকটি রসুন নিবেন এরপরে রস বের করবেন, এর সাথে লেবুর রস মিশাতে পারেন। এরপরে যে পেস্ট তৈরি করবেন। সেটা চুলের গোড়াতে লাগাবেন এবং ম্যাসাজ করবেন এভাবে ৩০ মিনিট রেখে দেওয়ার পরে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। সপ্তাহে দুই তিন দিন ব্যবহার করে দেখতে পারেন আশা করি উকুন সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
৮। পেট্রোলিয়াম জেলিঃ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান এটা চুলে সুন্দর করে লাগাতে পারেন এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর শ্যাম্পু করতে পারেন। এরপরে দেখবেন আপনার চুল থেকে উকুন সরে গেছে।
৯। নারকেল তেলঃ এটা চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই চুলের উপকার করে থাকে। পাশাপাশি আপনার উকুন দূর করতে সাহায্য করবে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে এটা প্রাকৃতিক গতভাবে উকুন দূর করতে সাহায্য করে। এর সাথে অল্প কিছু লবঙ্গ মিশাতে পারেন এবং খাঁটি নারিকেলের তেল মিক্সড করে যদি আপনি দিতে পারেন, তাহলে দেখবেন ৮০ শতাংশ উকুন মরে যাবে।
১০। বেকিং সোডাঃ এর সাথে কন্ডিশনার মিশিয়ে দিতে পারেন, এই মিশ্রণটি ১৫ মিনিট মাথায় রেখে দিবেন। এরপরে ঘন চিরুনি দিয়ে চুল গুলো টেনে নিবেন, দেখবেন সাথে উকুন বের হয়ে আসছে এবং তার সাথে ডিমও থাকবে না।
১১। চিকন দাঁতের চিরুনিঃ গ্রাম অঞ্চলের সাধারণত এই ধরনের চিরুনি ব্যবহার করে ও উকুন দূর করে থাকে। তাই আপনিও এই চিকন দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করতে পারেন। এরপরে চুলের শ্যাম্পু ব্যবহার করার পরে চিকন দাঁতের চিরুনি দিয়ে ভালো করে ব্রাশ করলে দেখবেন উকুন সাথে সাথেই পড়ে যাবে।
১২। হেয়ার ড্রায়ারঃ অনেকেই এই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে কারণ এর মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে গরম বাতাস আপনার চুলে লাগবে। এতে চুলগুলো আলগা হয়ে যায় এতে উকুন গুলো এখান থেকে বের হয়ে আসে এবং জীবন্ত উকুন গুলো হয়তো মারতে পারবেন না কিন্তু এই উকুনের ডিম গুলো ধ্বংস হয়ে যাবে এবং মারা যাবে তাই এটা ব্যবহার করতে পারেন।
১৩। ভেজা চুলে চিরুনি করাঃ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে চুল যখন ভেজা থাকে তখন সামান্য কন্ডিশনার মাখিয়ে চিরুনি দিয়ে যদি আঁচড়াতে থাকেন, তাহলে দেখবেন উকুন পড়ে যাবে। সাধারণত সপ্তাহে দুই তিনবার ব্যবহার করবেন, ১ মাস ব্যবহার করলে দেখবেন ভালো ফলাফল পাবেন। এই উপায়টি আপনি কাজে লাগাতে পারেন।
১৪। মেয়োনিজঃ এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা আপনি উকুন দূর করতে পারেন। এর মাধ্যমে অনেকেই পাউরুটি বা বিভিন্ন খাবারের সাথে মেয়োনিজ খেয়ে থাকে কিন্তু এটা উকুন দূর করতেও ভালো কাজ করে থাকে। তাই এটা সাধারণত রাত্রিতে দিয়ে রাখবেন ১২ ঘণ্টার বেশি রাখলে ভালো হবে। সকাল বেলায় চিরুনি দিয়ে আঁচড়াবেন, দেখবেন অনেক উকুন মরে যাবে।
১৫। মাউথ ওয়াশঃ এই উপাদানটি আপনি ব্যবহার করতে পারেন, কারণ এটি একটি তরল উপাদান যা আপনার মাথার ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং থায়াবল থাকার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে উকুন মেরে ফেলতে পারবেন। যার কারণে এটির ব্যবহার করা যেতে পারে যদিও এটি একটি বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
তাই এটা আপনি ব্যবহার করে দেখতে পারেন উকুন তাড়াতে ভালো কাজ করবে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ নিয়ে আপনার মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখবেন। এরপর একটি তোয়ালে দিয়ে চুলগুলো ঢেকে রাখবেন। ২ঘন্টা রাখার পরে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন, দেখবেন উকুন মরে গেছে। সপ্তাহে দুই একবার এটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url