নাকের ব্ল্যাক হেডস দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন
অনেকের নাকের উপর এ ধরনের ব্ল্যাকহেডস দেখা যায়। তাই ব্ল্যাক হেডস দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানলে আপনার উপকার হবে। চলুন, কিভাবে এই ব্ল্যাকহেডস দূর করবেন সেই সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনেকের ত্বকে ব্ল্যাকহেডস হওয়ার কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে নারীদের যদি এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়। তাই ব্ল্যাক হেডস দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
পোস্টসূচিপত্রঃনাকের ব্ল্যাক হেডস দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন
ব্ল্যাক হেডস দূর করার ঘরোয়া উপায়
আপনি যদি নাকের ব্ল্যাকহেডস এর সমস্যায় পড়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপায়ে দূর করতে পারেন। তাই ব্ল্যাক হেডস দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন, এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
আপনার মুখ যদি তৈলাক্ত হয়ে থাকে এবং ধুলাবালির মধ্যে কাজ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার ত্বকে দেখবেন ব্ল্যাকহেডস দেখা দিয়েছে। এটা মূলত ব্রণের মত দেখতে, নাকের উপর বেশি হয়ে থাকে গুড়ি গুড়ি দেখা যায়।
এছাড়াও কপালে ও গালের উপরও হয়ে থাকে, এটা এক ধরনের ব্রণের মত দেখতে। যা ছিদ্রযুক্ত ব্রণ এর মধ্যে ধুলাবালি ও মৃত কোষ দিয়ে ভরে যায়। ব্ল্যাকহেডস যদি হয় সেজন্য আপনার চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এজন্য এই ব্ল্যাকহেডস গুলো কিভাবে সরিয়ে ফেলবেন প্রাকৃতিক উপায়ে সে সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ডিমের সাদা অংশঃ এর মধ্যে এক ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে, যা আপনার ত্বকের ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সাহায্য করবে। এর উপরে লাগানোর জন্য ডিমের সাদা অংশ টিস্যু পেপারের সাথে মিক্সড করে নিবেন। এরপরে আপনার আক্রান্ত স্থানগুলোতে লাগাবেন, তারপর দেখবেন এটি টিস্যু পেপারের সাথে উঠে আসবে। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করতে থাকেন, ভালো ফলাফল পাবেন।
লেবুঃ লেবুর মধ্যে এক ধরনের এসিড থাকে, যা আপনার ত্বকের ব্রণ, ব্ল্যাকহেড এবং আরো বিভিন্ন ধরনের ত্বকের দাগ দূর করতে সাহায্য করে থাকে। এজন্য লেবুর রস এর সাথে হালকা লবণ, দই এবং মধু মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করতে পারেন। যা আপনার ত্বকে পরিমাণ মতো লাগাতে পারেন, কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবেন দেখবেন এই ধরনের সমস্যাগুলো দূর হয়ে যাবে।
এছাড়াও লেবুর রসের সাথে যদি দুধ বা গোলাপ জল মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন, এভাবে সপ্তাহ খানেক ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাবেন।
দারুচিনিঃ এটি একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা আপনার ত্বকের জন্য দারুন কাজ করবে। বিশেষ করে ত্বককে পরিষ্কার করতে পারে এবং উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে। এজন্য পরিমাণ মতো এর গুড়া এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করবেন। তা আপনার ত্বকে লাগাবেন ২০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলবেন। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বক থেকে ব্ল্যাকহেডস দূর হয়ে যাবে।
এলোভেরাঃ অ্যালোভেরার মধ্যে যে উপাদানটি থাকে তা আপনার যেকোনো ধরনের ব্রণ, মুখের তৈলাক্ত এবং ব্ল্যাকহেডস হোয়াইটহেডস ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করবে। এজন্য আপনি এই জেলটি ব্যবহার করতে পারেন। মুখে লাগানোর পরে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবেন, এরপরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন। দেখবেন আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
নারিকেল তেলঃ নারিকেল তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যকারী প্রাকৃতিক উপাদান। যা আপনি ত্বকের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য রাত্রিতে ঘুমানোর পূর্বে খাঁটি নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন। রাত্রিতে লাগিয়ে রাখবেন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলবেন, তাহলে আপনার ত্বকের ব্ল্যাকহেড দূর হয়ে যাবে।
ভিনেগারঃ এর মধ্যে আছে এক ধরনের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা আপনার ত্বকের যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করবে এবং এটা যদি আপনি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে অনেক উপকার পাবেন। তাই আপনার পকে এই উপাদানটি লাগাতে পারেন, লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে তারপরে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। দেখবেন আপনার ত্বক থেকে ব্ল্যাকহেডস চলে গেছে।
বেকিং সোডাঃ আপনার মুখের যেকোনো ধরনের ময়লা দূর করতে এবং ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ ইত্যাদি দূর করার জন্য বেকিং সোডা দারুণ কাজ করে থাকে। বিশেষ করে এটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং ব্ল্যাকহেডস দূর করতে ভালো কাজ করে থাকে।
এজন্য ২ চামচ পরিমাণ বেকিং সোডা নিতে হবে, এরপর পানিতে মেশানো লাগবে। ত্বকের ব্ল্যাকহেডসের যার সমস্যা আছে তারা এই পেস্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটা লাগানোর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে যদি দুই থেকে তিন দিন ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে এই ধরনের সমস্যা থাকবে না।
গরম পানির ভাপ নিতে পারেনঃ গরম পানির ভাপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ত্বকের জন্য তবে পদ্ধতিটা জানা আমাদের প্রয়োজন। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাত্র নিতে হবে এরপরে গরম পানি দিয়ে মিনিটখানেক ভাপ নিতে পারেন। তারপরে লেবুর রস, মধু, চিনি ইত্যাদি দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে মুখে ঘষে লাগানো যেতে পারে।
এভাবে মিনিটখানেক মেসেজ করতে পারেন, এরপরে পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই গরম করে ভাপ নেওয়া লাগবে। এভাবে আপনি নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার নাক বা ত্বকের ব্ল্যাকহেডস দূর হয়ে যাবে।
ওটমিলঃ ওটমিল এবং দই এই দুইটা মিশ্রন করে যদি আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন, সে ক্ষেত্রে ভালো উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ত্বকের ব্ল্যাকহেড দূর করার ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এজন্য আপনি উপরোক্তে এই দুটি মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়াও যদি আপনি টমেটোর রস এক চামচ মধু এর সাথে ওটমিলটা মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে, আপনি ব্যবহার করতে পারেন। এই স্কার্বটি আপনার ত্বকে লাগানোর পর কিছু অপেক্ষা করবেন তারপরে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে ব্যবহার করলে আপনার ত্বক থেকে ব্ল্যাকহেড দূর হয়ে যাবে।
এজন্য ২ চামচ পরিমাণ ওটমিলের সাথে ২ চামচ লেবুর রস, অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করবেন। এরপরে মুখে ত্বকের যে জায়গায় এই ব্ল্যাকহেড হয়েছে, সেখানে লাগানোর পরে হালকা শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
গ্রিন টিঃ প্রাকৃতিক উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো গ্রিন টি, যা আপনার ত্বকের ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সাহায্য করবে। এজন্য এক চামচ পরিমাণ শুকনা গ্রিন টি নিবেন, এরপরে সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করবেন।
এরপরে আপনার ত্বকের যেখানে ব্ল্যাকহেডস রয়েছে সেখান দিয়ে লাগিয়ে দিবেন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। আবার এই মিশ্রণটি খাওয়াও যেতে পারে, এই পেস্ট ত্বক পরিষ্কার করে এবং ত্বকে অতিরিক্ত তেল দূর করে দেয়।
মধুঃ মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে থাকে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে পারে। এছাড়া ত্বককে পরিষ্কার করতে পারবে, তাছাড়াও ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সাহায্য করে থাকে। এজন্য পুরো মুখেই আপনি খানিকটা মধু লাগাতে পারেন। মিনিট ১০ অপেক্ষা করতে পারেন, এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
টুথপেস্টঃ আমাদের বাড়িতে সবারই টুথপেস্ট রয়েছে, যা দিয়ে আমরা দাঁত ব্রাশ করে থাকি। এটা দাঁত ব্রাশ করা ছাড়াও আপনি ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের ব্ল্যাকহেডগুলো দূর হয়ে যাবে। যদিও একদিন এটা সম্ভব নয় কিছুদিন ব্যবহার করলে আশা করা যায় সমাধান পাবেন।
এজন্য অবশ্যই ভালো মানের সাদা টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন, আপনার আক্রান্ত স্থানে পাঁচ মিনিট রেখে দিবেন। এরপরে নরম একটি ব্রাশ দিয়ে ধীরে ধীরে ঘষতে থাকবেন। আশা করা যায় ত্বকের এই চামড়া গুলো উঠে যাবে এবং এর সাথে ব্ল্যাকহেডগুলো দূর হয়ে যাবে।
এএইচএ সমৃদ্ধ সেরামঃ এর মধ্যে আলফা হাইড্রোক্সি এসিড থাকে যা আপনার ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়াও ত্বকে মৃত কোষগুলো দূর করে দেয়, বিভিন্ন ধরনের দাগ এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করবে। এটা ত্বকের আক্রান্ত স্থানগুলোতে লাগাতে পারেন, এতে আপনার ত্বকের কোলাজেন, আঁশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, এছাড়াও ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।
রেটিনল ক্রিমঃ এটা এমন একটি ক্রিম যা আপনার আক্রান্ত স্থানগুলোতে যদি লাগাতে পারেন, তাহলে আপনার ব্ল্যাকহেডস এবং ব্রণ দুটাই সারাতে উপকার করে করবে।
মুখ ধোয়াঃ আপনার যদি এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে, এটা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই সকল বিকাল ও রাত্রিতে ঘুমানোর পূর্বে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া আপনার সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার ত্বকে যেন ঘাম না থাকে এবং আপনি যখন ব্যায়াম করা, ভারী কাজকর্ম করেন তখন মুখ ঘেমে গেলে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া লাগবে।
টমেটোর সাহায্য নিতে পারেনঃ এটা এমন একটি উপাদান যার মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। এতে এনজাইম থাকে যা ত্বকের এক্সফুলিয়েট করতে পারবে, ত্বকের মৃত কোষ এবং ব্ল্যাক হেডস গুলো দূর করতে পারবে। এজন্য একটি টমেটো নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে, পরে পুরো মুখে মেখে দিতে হবে। ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করতে হবে, এরপর শুকিয়ে গেলে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। আর যদি তৈলাক্ত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে টমেটোর সাথে পানি মিশিয়ে নিতে পারেন।
পেট্রোলিয়াম জেলিঃ অনেকের শীতের কারণে ঠোঁট বা হাত,পা ফেটে যেতে পারে, এজন্য প্রতিরোধ হিসেবে পেট্রোলিয়াম জেলি সবাই ব্যবহার করে থাকে এবং হাতের নাগালে এটা পাওয়া যায়। এজন্য এটা আপনি উপযুক্ত ভাবে ব্যবহার করলে ব্ল্যাকহেডস দূর হবে।
নাকে সাধারণত ব্ল্যাকহেডস বেশি হয়ে থাকে, সেজন্য পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে দিতে পারেন। এরপর হালকা গরম পানি নিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে পারেন। এতে মুখে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাবে ও মুখের বা নাকের ব্ল্যাকের দূর হয়ে যাবে।
পুদিনা পাতাঃ এই পুদিনা পাতা ব্ল্যাকহেড দূর করতে দারুন কাজ করে থাকে, এর মধ্যে গুড়া হলুদ নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করতে পারেন। এরপরে আপনার ব্ল্যাকহেডস আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে দিতে পারেন। যদি জায়গাগুলোতে সম্পন্ন লেগে থাকে তাহলে আশা করা যায় অতি দ্রুত সেরে যাবে।
এছাড়া প্রাকৃতিক উপাদান হিসাবে যে উপাদান গুলো ব্যবহার করতে পারেন, তার মধ্যে মটর ডাল ভাজা তারপর সয়াবিন গুঁড়ো, চালের গুঁড়ো, পানি ইত্যাদি নিতে হবে। অবশ্যই আপনি এগুলো চালের গুঁড়োর সাথে মিক্সড করে নিতে হবে, তারপর আপনার আক্রান্ত স্থানে লাগাবেন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন, এটা আপনার ত্বক উজ্জ্বল হবে এবং ব্ল্যাক হেড থেকে মুক্তি পাবেন।
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url