গর্ভাবস্থায় কাশি হলে কি করনীয় ও যেসব ঔষধ খাওয়া নিরাপদ
গর্ভাবস্থায় কাশি হলে কি করনীয়
চিকেন স্যুপঃ ঠান্ডা বা কাশি হলে সাধারণত তরল জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া বেশি প্রয়োজন তার মধ্যে চিকেন স্যুপ খেতে পারেন। কেননা গবেষণায় দেখা গেছে যে এই ধরনের খাবার খাওয়ার কারণে সর্দি-কাশি গলা ব্যথা সহ ঠান্ডা দূর হয়ে যাবে
হাইড্রেশনঃ অনেক গর্ভবতী মায়েরা এ সময় পানি খেতে চায় না যার কারণে হাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয় এজন্য বড় ধরনের বিপদ হতে পারে তাই প্রচুর পরিমাণে পানি খাবেন এবং তরল জাতীয় খাবার গুলো খেতে হবে যদি আপনার সর্দি কাশি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই তরল জাতীয় খাবার গুলো খাবেন এবং বেশি বেশি পানি পান করবেন এটা আপনার সর্দি-কাশিটা অনেকটাই কমে যাবে কেননা উষ্ণতরন জাতীয় খাবার গুলো খাওয়ার কারণে আপনার নাক দিয়ে পানি পড়া গলা ব্যথা হওয়া হাঁচি কাশি থেকে রক্ষা পাবেন
ফুটন্ত পানির ভাপ নেওয়াঃ গর্ভবতীদের এই সময় যেহেতু বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়া নিষেধ রয়েছে তাই সর্দি কাশি লাগলে সাধারণত ফুটন্ত পানির ভাপ নিতে পারেন এতে দারুণ কাজ করে থাকে এজন্য আপনি একটি গামলা নিবেন তার উপরে হালকা গরম পানি দেওয়ার পরে মুখটা গরম পানির উপরে একটু দূরে রাখবেন কেটে দেখবেন আপনার নাকের ভিতর দিয়ে এই ভাপ গুলো চলে যাচ্ছে এটা আপনার নাক পরিষ্কার হয়ে যাবে
কুসুম গরম পানিতে গার্গল করাঃ এ সময় আপনার যদি কাশির সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে গড়গড় করতে পারেন এর মধ্যে হালকা লবণ পানি লবণ দিতে পারেন এতে আপনার খুশখুসে কাশি গুলো অনেকটাই কমে যাবে এছাড়াও দারুন কাজ করবে হালকা গরম পানির মধ্যে লবন মিশানোর ক্ষেত্রে আপনার
প্রতিদিন এইভাবে যদি সকাল বিকাল করতে থাকেন তাহলে দেখবেন আপনার গলা ব্যথা খুসখুসে কাজের সমস্যা এগুলো দূর হয়ে যাবে এই গরম পানির সাথে যদি হালকা লবঙ্গ দিতে পারেন সে ক্ষেত্রেও এবং আদা কুচি করে দিতে পারেন সে ক্ষেত্রে তো দারুন কাজ করবে
আদাঃ আদা প্রাকৃতিক একটি ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে গর্ব অবস্থায় যদি আপনি এই আদা টুকরো টুকরো করে এ দিয়ে খেতে পারেন এছাড়াও যদি চা দিয়ে খেতে পারেন সেক্ষেত্রে দারুন কাজ করবে কেননা এর মধ্যে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরিএন্টি ভাইরাল অ্যান্টি ভ্যাক্টরি ব্যাকটেরিয়াল এক্সিডেন্ট থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আপনার কাশি সর্দি গলা ব্যথা ইত্যাদি দূর করতে সাহায্য করবে
লেবু ও মধুঃ লেবু অত্যন্ত কার্যকারী উপাদান সর্দি এবং কাশির ক্ষেত্রে কেননা এর মধ্যে ভিটামিন সি থাকে যা আপনার সঠিক আছে দূর করতে সাহায্য করবে এছাড়াও যদি মধু এর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে দারুন এজন্য এক গ্লাস কুসুম গরম পানির মধ্যে এক সাহস মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন তাই গর্ভাবস্থায় এই উপাদানটি কাশির জন্য দারুন কাজ করবে
রসুন খেতে পারেনঃ রসুন একটা প্রাকৃতিক এন্টিবায়োটিক বলা হয়ে থাকে এর মধ্যে এন্টিভাইরাল থাকে যা আপনার ভাইরাস ের সমস্যা যদি করে থাকে তাহলে সেটা দূর হবে এজন্য অল্প পরিমাণ রসুন কুচি কুচি করে মধুর সাথে মিক্স করে খেতে পারেন তাহলে দেখবেন গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে সর্দি কাশি যদি কোন ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে তাহলে সেরে যাবে
আদা চা খেতে পারেনঃ গর্ভাবস্থায় সাধারণত অনেকেরই সর্দি কাশি লেগেই থাকে যার কারণে এই সময় ওষুধ খাওয়া যায় না এজন্য আপনি আদা চা খেতে পারেন কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকে যা আপনার ঠান্ডা কাশি থেকে মুক্তি দিবে
মধু খেতে পারেনঃ মধু এর মধ্যে এন্টিঅক্সিডেন্ট এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকে যা আপনার সর্দি কাশি দূর করতে সাহায্য করে তাই গর্ব অবস্থায় সর্দি কাশি হলে মধু খেতে পারেন এজন্য আপনি চায়ের সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন এবং এর মধ্যে একটি লেবুর রস দিতে পারেন এতে ভালো উপকার পাবেন
কমলার রসঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে যা আপনার কাশি দূর করতে সাহায্য করে তাই গর্ব অবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এর প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে কমলা রস খেতে পারেন কেননা যে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে
পুষ্টিকর খাবার খাবেনঃ গর্ভাবস্থায় অবশ্যই আপনার পত্রিকাগুলো খাদ্য খেতে হবে তাহলে আপনার শরীর দুর্বল হবে না এবং রোগ ব্যাধি আক্রমণ করতে পারবে না কেননা এই সময়ে যদি আপনার শরীর দুর্বল থাকে তাহলে অল্পতেই ঠান্ডা কাশি লেগে থাকবে এজন্য এই ঠান্ডা আকাশে দূর করার জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এজন্য আপনি খাবার তালিকায় সবুজ শাকসবজি টমেটো শাক ধরনের খাবার গুলো পেতে পারেন এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে অ্যাক্সিডেন্ট খাওয়া যায় বা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে
হলুদঃ এর মধ্যে এক ধরনের অ্যান্টিভাইরাল অ্যান্ট এক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকে যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে এবং সর্দি-কাশি গলা ব্যথা দূর করতে সাহায্য করবে এজন্য আপনি এক গ্লাস দুধের মধ্যে এক চামচ হল দের গুঁড়ো দিতে পারেন এবং অল্প পরিমাণ লবণ দিতে পারেন এরপরে এইটা দিয়ে আপনি গারগাল করবেন এটা আপনার সর্দি কাশি দূর হয়ে যাবে
পর্যাপ্ত ঘুমঃ গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত এই সময় ঘুম কম হয়ে থাকে যার কারণে শরীরে সমস্যা দেখা দেয় এবং দুর্বল হয়ে যায় এজন্য দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি আক্রমণ করতে থাকে এজন্য অবশ্যই একজন গর্ভ থেকে সাত থেকে নয় ঘন্টা পর্যন্ত ঘুমাতে হবে তাহলে শরীরে ইউমিনিটি বৃদ্ধি পাবে
নারকেল তেলঃ এটা অসাধারণ অসাধারণ ছত্রাক ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এজন্য এর যে উপাদান থাকে তা আপনার ভাইরাস দমন করতে সাহায্য করবে এছাড়াও ভাইরাস গুলো বড় হতে বাধা দিবে এজন্য নারিকেলের তেল ব্যবহার করতে পারেন এটা সরাসরি হতে পারেন সর্দি কাশি থেকে মুক্ত করার জন্য আপনি গরম পানির মধ্যে অল্প পরিমাণ নারিকেলের তেল মিশিয়ে সেটা খেতে পারেন এটা আপনার কাশি দূর হয়ে যাবে
জিংক খাওয়া যেতে পারেঃ গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত সর্দি কাশি লেগেই থাকে এজন্য জিংক জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া যেতে পারে কেননা রাইনোভি রাস কারণে সাধারণত সর্দি-কাশি লেগে থাকে এই ধরনের ভাইরাস দূর করার জন্য অবশ্যই জিংক খাওয়া যেতে পারে এজন্য অনেকে আবার জিংক জাতীয় সিরাপ খেয়ে থাকে যা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে আপনি সিরাপ না খেয়ে পালং শাক কুমড়ার বীজ ভেড়ার মাংস মাংস পাঁঠার মাংস খেতে পারেন এতে প্রচুর পরিমাণ জিংক থাকে
মাথা উঁচু করে রাখতে পারেনঃ ঘুমানোর সময় অবশ্যই মাথা উঁচু করে রাখবেন এতে কাশি অনেকটা কমে যাবে এজন্য মাথা রেখেছে উল্টো বালিশ রাখবেন এবং আপনার শ্বাস প্রশ্বাস নিতে খুবই সহজ হবে
পরিছন্নতা থাকবেনঃ গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত এইসব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই প্রয়োজন রাইনো ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় এবং সর্দি কাশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে আপনাকে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে বাতাসের সাথে সরাতে না পারে তাছাড়া খাওয়ার আগে এবং পরে হাত অবশ্যই পরিষ্কার করবেন
হ্যান্ড স্যানিটাইজারঃ গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত সচেতন থাকতে হবে এবং শরীরে যেন ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে না পারে এজন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে বাহিরে যখন যাবেন অথবা ভিতরে প্রবেশ করবেন তখনই হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেনঃ গর্ব অবস্থায় সাধারণত সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে যার কারণে অনেক সময় প্রাথমিক চিকিৎসায় আপনার এই সর্দি কাশিন্দা ও সারতে পারে সেজন্য অবশ্যই বেশি বেশি করে কাছে যেতে হবে তবে নিম্নোক্ত তামাশা গুলো দেখা দিলে অবশ্যই একজন চিকিৎসার কাছে যাবেন চলুন যে সমস্যাগুলো হলে আপনাকে সেগুলো জেনে নেওয়া যাক
গর্ভবতীর জ্বর ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে বেশি হয়
আপনার কাশির সাথে যদি রক্ত বের হতে থাকে
কাশির সাথে শ্বাসকষ্ট ও বুকের ব্যথা ঘিরে বেড়ে যায়
কাশির সাথে হলুদ রঙের কফ বের হয়
নিঃশ্বাস নিতে গেলে ভিতরের শব্দ করে
এই ঠান্ডা কাশি যদি দুই সপ্তাহের বেশি হয়ে যায়
এবং গর্ভবতী নারী যদি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে যায়
উপরোক্তই সমস্যাগুলো দেখা দিলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে
গর্ভবতী অবস্থায় কাশির নিরাপদ ঔষধঃ গর্ভবতী মায়েরা সাধারণত কাশির সির াপকে খাওয়ার জন্য খেতে চায় যার কারণে চিকিৎসর প্রাণী নিরাপদ কিছু কাশির সিরাপ দিয়ে থাকে চলুন সেই সিরাপ গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক
সিউডোফেড্রিনঃ এই সিরাপটি গর্ভবতীদের জন্য নিরাপদ রয়েছে রক্তনালীকে সংকুচিত করতে পারে গলা ব্যথা নাকের সমস্যা সর্দি কাশি দূর করতে সাহায্য করবে তবে একটু সতর্ক থাকতে হবে যে সকল নারীদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের ক্ষেত্রে প্রথম তিন মাসে এই ধরনের ওষুধটি খাওয়া যাবে না
ক্লোরফেনিরামিনঃ সাধারণত কাশির সুরাত সিরাপ যা গর্ব অবস্থায় খাওয়া যাবে প্রতি এলার্জি ও সর্দির পাশের জন্য উদাহরণ কাজ করে থাকে
ডেক্সট্রোমেথরফ্যানঃ এই কাশির সিরাপ দিয়ে গর্ভবতীদের জন্য খাওয়া যেতে পারে গবেষণা করে দেখা গেছে বা পরীক্ষা-নির ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে এই ওষুধটি খাওয়ার কারণে গর্ভস্থ শিশুর কোন সমস্যা হবে না এর সম্ভাবনা নাই
ডিফেনহাইড্রামিনঃ এই সিরাপ দিয়ে এন্টিহিস্টামিন হিসাবে কাজ করে থাকে এতে গর্ভবতীর ক্ষেত্রে নিরাপদ আছে কমিয়ে দেয় কফ কমিয়ে দেয় এছাড়াও অ্যান্টি সিস্টেমের কাজ করে থাকে এবং এটা শরীরের এলার্জির বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url