পিরিয়ডের সময় কোমর ব্যথা কমানোর উপায় সম্পর্কে জানুন
পিরিয়ডের সময় কোমর ব্যথা কমানোর উপায়
এ সময় জড়াইতে প্রচন্ড পরিমাণ চাপ লাগতে পারে যার কারণে পেটে যন্ত্রণা করে থাকে এবং এই ব্যথা প্রচন্ড পরিমাণে ছড়িয়ে যায় কোমর এবং শরীরের স্থানে এ ধরনের ব্যথা কমানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায় সম্পর্কে জানলে আপনার ব্যথা কমে যাবে চলন জেনে নেওয়া যাক
ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়ঃ আপনি চাইলে ওষুধের মাধ্যমে ব্যথা কমাতে পারেন আবার ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমেও ব্যথা কমানো যায় চলুন ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে কিভাবে ব্যথা পাবেন সেই সম্পর্কে জানা যাক
গরম পানির সেকঃ এই সময়ে ব্যথা কমানোর সবচেয়ে সহজ বুদ্ধি হলো উপায় হলো হট ওয়াটার ব্যাগ অর্থাৎ গরম পানির সেক দিতে পারেন এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে এভাবে উপকার করে থাকেন তাছাড়া কুসুম গরম পানির মধ্যে গোসল করতে পারেন
আদা চাঃ এ সময় গরম পানি অথবা গরম চা খেলে খুবই উপকার পাওয়া যায় এবং ব্যথা অনেকটা কমে যায় এই আদা কুচি কচি করে চায়ের সাথে মিক্সড করে খেতে পারেন
ব্যায়াম করাঃ এ সময়ে অনেকে ব্যায়াম করতে পারে না অনেক কষ্ট হয়ে থাকে এজন্য হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে এবং হাঁটা যেতে পারে এতে আপনার ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে
ঘুম ও বিশ্রামঃ এ সময়ে অত্যন্ত মানসিক টেনশন হয়ে থাকে যার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম দিতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে এছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে বিভিন্ন ফলের রস ও শরবত খাওয়া লাগবে ভিটামিন যুক্ত খাবার গুলো খেলে শরীরে উপকার মিলবে
হারবাল চাঃ এ সময় আপনি হারবাল চা খেতে পারেন এর কারনে আপনার পিঠ ও কোমর ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে তাছাড়া লেবু দিয়ে চা খাওয়া যেতে পারে এটা আপনার অনেকটা ক্লান্তি ভাব কমে যাবে
ফাস্টফুড খাবেন নাঃ সে সময়ে সাধারণত ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবার গুলো এড়িয়ে চলতে হবে বাইরের প্রসেসিং খাবার গুলো খাবেন না এই ধরনের খাবার খেলে আরো আপনার কোমর ব্যথা আরো বৃদ্ধি পাবে
ফল খাবেনঃ এ সময়ে যেহেতু শরীর থেকে অনেক ধরনের পুষ্টি বের হয়ে যায় এজন্য পুষ্টিকর ফল খাবার পেতাম কলা খাওয়া যেতে পারে কেননা এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা আপনার শরীরের পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করবে এ ছাড়াও অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি খাবেন এতে আপনার আয়রন এর ঘাটতি পূরণ করে থাকেন ফলের মধ্যে যেমন বেদানা খেজুর খাওয়া যেতে পারে
আদার রসঃ এ সময় আপনি আদার রস এর মধ্যে মধু ও মিশিয়ে খেতে পারেন অথবা গরম পানি করেও এর মধ্যে মধু আদা কুচি কুচি করে নিয়ে অল্প পরিমাণ করে খেতে পারেন খেতে আপনার ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে এটা আপনার ব্যথা কমার পাশাপাশি খাদ্য হজমের ক্ষেত্রেও দারুণ কাজ করে থাকে
পেঁপেঃ এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে যা আপনার পুষ্টির চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি এটা বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে তাই আপনার এই সময়ে কাঁচা পেঁপে খেতে পারবেন তাহলে দেখবেন আপনার এই ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে
ল্যাভেন্ডার অয়েলঃ এই সময় প্রচুর পরিমাণে পেটের ব্যথা হওয়ার কারণে হলে হয়ে থাকে এজন্য কয়েক ফোটা লেভেন্ডার অয়েল নিয়ে ব্যথা স্থানে মালিশ করতে পারেন এভাবে 15 মিনিট মালিশ করলে দেখবেন আপনার ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড খাবারঃ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার গুলো বেশি বেশি খাবেন তাহলে আপনার শরীরের পুষ্টি অভাব হবে না যেমন সামুদ্রিক মাছ ডিম সবুজ শাকসবজি মটরশুঁটি বাদাম দই কমলা লেবু কলা ইত্যাদি এই ধরনের ফলগুলো যদি আপনি এই সময়ে খান তাহলে আপনার ব্যথা দূর হবে এবং তলপেটে ব্যথা করবে না কেননা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি আসিফ বিভিন্ন ধরনের ব্যথা বা প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে
গোলমরিচ ও মেথি ব্যবহারঃ গোলমরিচ মেথি এবং কাঁচা হলুদ মিশিয়ে যদি আপনি খেতে পারেন তাহলে অনেকটাই ব্যথা কমে যাবে এজন্য দুই কাপ পানি দিবেন এবং এক চামচ করে এগুলোর গোল মরিচ গুঁড়ো মেথি ও হলুদ নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করবেন এরপরে কিছুক্ষণ পানিটুকু ফুটিয়ে নিবেন তারপরে ভালো করে ছেকে নিতে হবে এরপরে যদি আপনি অল্প অল্প করে খেতে থাকেন তাহলে আপনার ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে এভাবে আপনি দিনে দুইবার খেতে পারবেন
ডার্ক চকলেটঃ এই সময়ে আরো একটি উপকরণ রয়েছে যার নাম তার চকলেট দারুন কাজ করে থাকে এই ধরনের ব্যথা কমাতে মূলত এটা আমাদের শরীরে ফ্যাট জমাতে পারে কিন্তু এটা ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে থাকে কারণ এর মাঝে চিনি থাকে না এর মাঝে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা তলপেটের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে থাকে
অ্যালোভেরা রসঃ ের সাথে এর সাথে মধু মিশিয়ে জুস বানিয়ে খেতে পারেন এই সময় এই জুস খেলে ব্যথা কমতে পারে দিনে দুই থেকে তিনবার এটা খেতে পারেন এতে আপনার ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে
তরল জাতীয় খাবারঃ সে সময় প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় এবং পানি বেশি বেশি খেতে হবে কারণ এই সময় শরীরের পানি সল্পতা দেখা দিতে পারে এ সময়ে সাধারণত ভাজা বুঝে খাবার গুলো খাবেন না প্রচুর পরিমাণে পানি ও খনিজ পদার্থ যুক্ত খাবার গুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন
পেট ম্যাসাজ করতে পারেনঃ এ সময়ে এই ধরনের ব্যথা দূর করার জন্য যেখানে ব্যথা করে তার চারপাশে হালকা ভাবে মেসেজ করতে পারেন এতে অনেক উপকার পাবেন এতে অনেক কাজ হবে
নারিকেলের তেল ব্যবহারঃ এই সময়ে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে নারিকেলের তেল কেননা এর মাঝে এন্টি এক্সিডেন্ট থাকে এছাড়াও এন্ট্রি ইনফ্লেমেটরি থাকে এরপরে লিনো লিক এসিড থাকে রয়েছে যা এই তেলের মাধ্যমে যদি আপনি মাসাজ করতে পারেন তাহলে দেখবেন আপনার তলপেটের ব্যথা এবং এই পিরিয়ডের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে
আরাম করুনঃ এ সময় কাজকর্ম একটু কম করতে হবে বিছান দিতে হবে মানসিকভাবে প্রশান্তি থাকার জন্য আরাম করা যেতে পারে এবং যোগ ব্যায়াম করতে পারেন এছাড়াও মানসিক চাপ যেন না আসে সেজন্য বিশ্রাম নেবে
ঢিলা ডালা পোশাক পড়াঃ বেন এ সময় সাধারণত টাইট পোশাক পরবেন না কেননা এতে আপনার তলপেটে চাপ লেগে যেতে পারে এতে আরো ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে সেজন্য ঢেলেবেলা পোশাক এবং সুতির জামা কাপড় পড়ার চেষ্টা করবেন যেন চলাফেরা করতে অসুবিধা না হয়
শ্বাসের ব্যায়ামঃ এ ধরনের ব্যাথা দূর করার জন্য ব্যায়াম করতে পারেন এজন্য বুকের উপর এক হাত এবং পেটের উপরে আরেকটি হাত রেখে নাক দিয়ে বড় বড় করে শ্বাস নিতে থাকেন এভাবে শ্বাস নেওয়ার কারণে বুকের পেট ফুলে যেতে পারে এভাবে আবার ছেড়ে দিবেন দেখবেন আপনার পেটের ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেনঃ এই ব্যথা যদি উপরোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করার পরেও না কমে এবং তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই একজন গাইনোকোলজিস্ট এর নিকট যেতে হবে এবং তিনি যে পরামর্শ দিবেন সেই মতে চিকিৎসা নিলে আশা করি সুস্থ হয়ে যাবেন
এম আর মাহমুদ ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url